নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতির চাপে রুই-কাতলার পর এবার দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্তের আমিষের শেষ ভরসা পাঙাশ ও তেলাপিয়ার দামও নাগালের বাইরে চলে গেছে। বর্তমানে বাজারে এই দুই চাষের মাছ প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২০২২ সালে যে তেলাপিয়ার দাম ১৪০ টাকা থেকে শুরু হতো, তা এখন বেড়ে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায় ঠেকেছে। একইভাবে ১২০ থেকে ১৫০ টাকার পাঙাশ এখন ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে পরিবারের মাছের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছেন অথবা কাটা মাছ ও ছোট তেলাপিয়া কেনার ওপর নির্ভর করছেন।
মাছ বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাছের খাবারের (ফিড) দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ বিল, পরিবহন খরচ এবং চাঁদাবাজির কারণে উৎপাদন থেকে শুরু করে খুচরা বাজার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। আগে মাছ পরিবহনের যে গাড়ির ভাড়া ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা ছিল, তা বেড়ে এখন ২০ হাজার টাকা বা তারও বেশি হয়েছে। মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও সংশ্লিষ্টদের মতে, পাঙাশ ও তেলাপিয়ার মতো সস্তা আমিষের উৎসের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে তা সাধারণ মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি করতে পারে। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে প্রোটিনের এই সহজলভ্য উৎসও ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের পাত থেকে হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।