সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদে অনৈতিক কাজের অভিযোগে অভিযুক্ত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটি। তবে তাদের আটক, বিচার কিংবা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্বজনদের অবহিত না করায় সৌদি আরব আন্তর্জাতিক আইন ও ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে কি না—তা নিয়ে কূটনৈতিক ও আইনি মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) তথ্যমতে, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক ও অশালীন কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ওই দুই বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিচার প্রক্রিয়া শেষে গত বুধবার তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট নিশ্চিত করেছে, পুরো প্রক্রিয়ার কোনো ধাপে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে কিছুই জানায়নি। এমনকি তারা আদৌ বাংলাদেশি নাগরিক কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য যাচাই করা হয়নি। খবরটি গণমাধ্যমে আসার পর জেদ্দায় বাংলাদেশ মিশন থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌদি আরব ১৯৮১ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশন স্বাক্ষর করায় এটি মানতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই কনভেনশনের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার হলে বা তাকে সাজা দেওয়া হলে বিলম্ব না করে তার দেশের দূতাবাসকে অবহিত করতে হয় এবং আটক ব্যক্তিকে কনস্যুলার সুবিধা গ্রহণের অধিকার দিতে হয়। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ড. রায়হান রশীদ ও ব্র্যাকের অভিবাসন বিভাগের প্রধান শরীফুল হাসান মনে করেন, অভিযুক্তরা আত্মপক্ষ সমর্থন বা কনস্যুলার সহায়তা নেওয়ার সুযোগ পাননি এবং এই গোপনীয়তার মাধ্যমে সৌদি আরব ভিয়েনা প্রটোকল স্পষ্টত লঙ্ঘন করেছে।
অন্যদিকে, সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির ভিন্নমত পোষণ করে জানান, কোনো দেশে বিদেশি নাগরিক অপরাধে জড়ালে সেই দেশের নিজস্ব বিচার প্রক্রিয়ায় সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্য দেশকে আগাম জানানোর কঠোর আইনি বাধ্যবাধকতা অনেক সময় থাকে না। তবে কূটনৈতিক সৌজন্য হিসেবে বা বাংলাদেশ অনুরোধ জানালে সৌদি কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যা দিতে পারে।
এদিকে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য না দেওয়ায় নিহতদের মরদেহ বর্তমানে কোথায় আছে বা কবে বাংলাদেশে ফেরত আসবে, সে বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্বজনরা। আইনগত প্রক্রিয়ার ধোঁয়াশা না কাটা পর্যন্ত তাদের পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে সহায়তা করাও সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।