নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম (৩২) হত্যা মামলায় নুরুজ্জামান মিন্টুর পর আরও দুই আসামিকে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার সকালে লালপুর আমলি আদালতের বিচারক মো. সাদ্দাম হোসেন এই নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন—বড়াইগ্রাম উপজেলার কচুগাড়ি দ্বাড়ীকুসি গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে মো. আলামিন (৩৮) এবং গুরুদাসপুর পৌরসভার খামার নাচকৈর মহল্লার নূর মোহাম্মদের ছেলে আনিছুর রহমান (৪২)। শুক্রবার ভোরে নিজ বাড়ি থেকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, মামলার অন্যতম আসামি ও নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই দুজনকে আটক করা হয়। শাকিল হত্যাকাণ্ডে তাদের প্রাথমিক সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, মিন্টুর প্রথম দফার রিমান্ড শেষ হলে শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করে পুনরায় ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করলেও শুনানির তারিখ ধার্য না করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা শাকিল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। কুপিয়ে জখম করার পর শাকিলকে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। সেখানে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে তার মৃত্যু হয়। এর আগে ১৯ অক্টোবর শাকিলের বাবা রবিউল ইসলাম থানায় মামলা করেন, যা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
শাকিলের মৃত্যুর পর দিন মঙ্গলবার জানাজা শেষে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে এক প্রবাসীর শপিংমলে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ঘটনায় অভিযুক্ত মিন্টুকে ইতোমধ্যে যুবদলের যুগ্ম সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহত শাকিলের বাড়িতে গিয়ে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল হাসান রাকিব। তারা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দেন।
ঘটনাক্রমের মধ্যেই নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার নাটোর জেলা বিএনপি দীর্ঘ ৮ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে।
বৈঠক শেষে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, জেলা কমিটির ক্ষমতা নেই কোনো যুগ্ম আহ্বায়কের বিরুদ্ধে সরাসরি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার। তাই সার্বিক বিষয় ও পর্যবেক্ষণ পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।