১৪ বার জাতীয় পুরস্কার অর্জনকারী যশোর চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের প্রশাসনিক অনুমোদন ও নতুন অবকাঠামো তৈরি হলেও পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে হাসপাতালটির পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দেশসেরা সরকারি মডেল হাসপাতালের স্বীকৃতিসহ মোট ১৪ বার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছে। চৌগাছা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী যশোর সদর, শার্শা, ঝিকরগাছা এবং ঝিনাইদহের মহেশপুর, কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জ উপজেলার রোগীরা এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রতিদিন এর বহির্বিভাগে শত শত রোগী ভিড় করলেও জনবল সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

হাসপাতালটিকে ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন ও অবকাঠামো নির্মিত হলেও আজও পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হয়নি। এলাকাবাসীর মতে, কেবল শয্যাসংখ্যা বা অবকাঠামো বাড়ালেই মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যায় না; এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম। পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম না থাকায় সাধারণ রোগীদের এখনও অনেক ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

উপজেলা পর্যায়ের এই সরকারি হাসপাতালটি দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসা। তবে পর্যাপ্ত জনবল ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে সাধারণ মানুষের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের জোরালো দাবি—হাসপাতালটিতে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিতকরণ এবং দ্রুত ১০০ শয্যার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা হোক।

হাসপাতালের বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুঃ আহসানুল মিজান রুমীসহ সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, স্বাস্থ্যসেবার মান ধরে রাখতে খুব দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। চৌগাছাবাসীর প্রাণের দাবি, প্রয়োজনীয় জনবল ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে এলাকার মানুষের সত্যিকারের আস্থার ও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপান্তর করা হোক।