নাটোরের গুরুদাসপুরে নন্দকুঁজা নদীতে বর্ণাঢ্য আয়োজন ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। কড়া নিরাপত্তা ও উৎসবমুখর পরিবেশে বুধবার বিকেল ৪টা থেকে নন্দকুঁজা নদীতে শুরু হয় বিসর্জনের মূল কর্মযজ্ঞ, যা চলে সন্ধ্যা অব্দি।
বিকেল সাড়াটায় ধর্মীয় মন্ত্রোচ্চারণ ও নিয়ম-নীতি মেনে পরম ভক্তিতে মা দুর্গাকে নদীর জলে বিসর্জন দেওয়া হয়। এবার মা দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যলোকে আগমন করেছিলেন এবং নৌকায় চড়ে কৈলাসে পতিগৃহে প্রত্যাবর্তন করলেন।
এর আগে সকালে উপজেলার সকল পূজামণ্ডপে দেবী দুর্গার শেষবারের মতো ধর্মীয় আচার-অর্চনা ও দশমী বিহিত পূজা সম্পন্ন হয়। বিকেল ২টার দিকে প্রতিমাগুলো সুসজ্জিত নৌকায় তোলা হয় এবং নদীতে শুরু হয় বিসর্জনের মনোরম মহড়া। প্রতিটি নৌকায় বেজে ওঠে ঢাক-ঢোলের বিদায়ের সুর, ওড়ে ধূপের ধোঁয়া। বিদায়ের আবহেও উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তরা মেতে ওঠেন সিঁদুর খেলা ও আনন্দ-উৎসবে। নদীমাতৃক এই বিসর্জন উৎসব দেখতে নন্দকুঁজা নদীর দুই পাড়ে সমাগম ঘটে হাজার হাজার দর্শনার্থীর। এ উপলক্ষে নদীর তীরঘেঁষে গড়ে ওঠে রঙ-বেরঙের নানারকম মেলার দোকানপাট।
অনুষ্ঠান চলাকালে প্রশাসনের নৌকায় চড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বিসর্জন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ড. আব্দুল আজিজ।
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ, গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, এ বছর নাটোর জেলাজুড়ে সর্বমোট ৪০৩টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে গুরুদাসপুর উপজেলাতেই ৩৪টি মণ্ডপে উদযাপিত হয়েছে এই উৎসব। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তায় পুরো উৎসবটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।