বাজারের বিভিন্ন কসমেটিকস ও রাসায়নিক প্রসাধনীর ভিড়ে অনেক সময় আমাদের রান্নাঘরে থাকা সহজলভ্য প্রাকৃতিক উপাদানগুলো অবহেলিত রয়ে যায়। অথচ প্রাত্যহিক রান্নায় ব্যবহৃত নানা উপকরণের মাঝেই ত্বককে পুনরুজ্জীবিত, সতেজ ও পুষ্ট করার চমৎকার সব গুণ লুকিয়ে রয়েছে। ঘরে তৈরি প্রাকৃতিক প্রসাধনী ব্যবহারের মাধ্যমে একদিকে যেমন ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শ এড়ানো সম্ভব, অন্যদিকে তেমনি অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপাদানগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

ত্বক ও ঠোঁটের সুরক্ষায় রান্নাঘরের সাধারণ উপাদান দিয়ে তৈরি বেশ কিছু কার্যকরী উপায় তুলে ধরা হলো:

১. ওটমিল ও মধুর ফেসপ্যাক: ওটমিলের প্রদাহ-বিরোধী গুণ সংবেদনশীল ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। অন্যদিকে মধু প্রাকৃতিক হিউমেক্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করে ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে। দুই টেবিল চামচ গুঁড়া ওটমিলের সঙ্গে এক টেবিল চামচ কাঁচা মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে ১৫ থেকে ২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে উষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে একবার এটি ব্যবহার করলে ত্বকে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা আসে।

২. নারিকেল তেল ও চিনির স্ক্রাব: ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে এক্সফোলিয়েশনের বিকল্প নেই। নারিকেল তেল গভীর থেকে আর্দ্রতা জোগায় এবং চিনি মৃত কোষ ঝরিয়ে কোমল ত্বক বের করে আনে। আধা কাপ নারিকেল তেলের সঙ্গে এক কাপ দানাদার চিনি ভালোভাবে মিশিয়ে, চাইলে কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল যুক্ত করে এই স্ক্রাবটি তৈরি করা যায়। ভেজা ত্বকে বৃত্তাকার গতিতে এটি ব্যবহার করে উষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার এটি ব্যবহার নিরাপদ।

৩. অ্যাভোকাডো ও দইয়ের প্যাক: শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের জন্য ফলের বাটিতে থাকা অ্যাভোকাডো ও টকদই দারুণ কার্যকর। অ্যাভোকাডোতে থাকা ভিটামিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ত্বককে গভীরভাবে পুষ্টি জোগায় এবং দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড মৃদু এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করে ত্বক উজ্জ্বল করে। অর্ধেক পাকা অ্যাভোকাডো চটকে তার সঙ্গে দুই টেবিল চামচ সাধারণ দই মিশিয়ে মুখে ১৫ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

৪. গ্রিন টি এবং লেবুর টোনার: ত্বক পরিষ্কার করার পর পিএইচ (pH) ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং লোমকূপ সংকুচিত করতে টোনারের জুড়ি নেই। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর ঠান্ডা গ্রিন টির সঙ্গে অর্ধেক লেবুর রস মিশিয়ে স্প্রে বোতলে ভরে এই টোনার তৈরি করা যায়। কটন প্যাডের সাহায্যে বা সরাসরি মুখে স্প্রে করে এটি প্রতিদিন ব্যবহার করলে ত্বক সতেজ থাকে।

৫. অলিভ অয়েল ও ব্রাউন সুগার লিপ স্ক্রাব: ফাটা ঠোঁটের সমস্যা দূর করতে অলিভ অয়েল এবং ব্রাউন সুগারের মিশ্রণ দারুণ কাজ করে। এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েলের সঙ্গে সমপরিমাণ ব্রাউন সুগার মিশিয়ে ঠোঁটে আলতোভাবে স্ক্রাব করে উষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে ঠোঁট নরম হয়। এরপর পছন্দমতো লিপবাম লাগিয়ে নেওয়া যায়। নিখুঁত ঠোঁটের যত্নে সপ্তাহে এক বা দুবার এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।