রাজবাড়ীতে চাঞ্চল্যকর পিয়ারুল হত্যা মামলায় শামীম আহসান (৩৬) নামের আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি মুরগির খামার থেকে ১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে নতুন করে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত সোমবার ফরিদপুরে অভিযান চালিয়ে শামীম আহসানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তারকৃত শামীম আহসান রাজবাড়ী সদর উপজেলার শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নের আহলাদীপুর বারইপাড়া এলাকার আলতাফ হোসেন মিলিটারীর ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দা পূর্বপাড়া জামে মসজিদে এশার নামাজ শেষে গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পিয়ারুলকে লক্ষ্য করে দুটি মোটরসাইকেলে আসা চার দুষ্কৃতকারী গুলি ছোড়ে। এতে তার বুকে গুলি লাগলে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে সদর হাসপাতালে এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ফারজানা হক বাদী হয়ে ১৭ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৯ অক্টোবর সুমন মন্ডল (৩৫) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। পরবর্তীতে তার সূত্র ধরেই শামীম আহসানকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছে গুলি থাকার তথ্য পাওয়ার পর রাজবাড়ী সদর থানার চর খানখানাপুর শেখপাড়া এলাকায় তার বাবার মালিকানাধীন একটি মুরগির খামারে অভিযান চালানো হয়। সেখানে শামীমের দেওয়া তথ্য ও নিজ হাতে বের করে দেওয়া মতে সাদা পলিথিনে মোড়ানো ১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়, যার প্রতিটি কার্তুজের পেছনে ‘৭.৬৫’ ও ‘K.F’ খোদাই করা রয়েছে।
ওসি উত্তম কুমার ঘোষ জানান, উদ্ধারকৃত গুলির ঘটনায় শামীম আহসানের বিরুদ্ধে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(এফ) ধারায় রাজবাড়ী সদর থানায় একটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।