দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্যদের (ভিসি) চার বছরের মেয়াদে নিয়োগ দেওয়া হলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই ঘন ঘন পরিবর্তনের ঘটনা ঘটছে। কোথাও দুই বছর, কোথাও কয়েক মাস, আবার কোথাও মাত্র কয়েক দিনের মাথায় উপাচার্য বদলে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালেয়ে (চুয়েট) দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তন করা হয়। একইভাবে নবগঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে প্রতিষ্ঠার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে তিনজন উপাচার্য পরিবর্তন দেখা গেছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিজস্ব আইন ও অধ্যাদেশ অনুসারে নিয়োগ দেওয়া হলেও সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একক বা অভিন্ন কোনো প্রতিযোগিতামূলক বাছাইপ্রক্রিয়া নেই। উপাচার্য বাছাইয়ে বিভিন্ন সময়ে সার্চ কমিটি গঠন করা হলেও সেই সুপারিশ কতটা মানা হচ্ছে, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যদের রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা চলায় রাজনৈতিক বিবেচনার বিষয়টি সামনে এসেছে। এতে করে চুয়েট এবং ডুয়েটের মতো বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে উপাচার্য নিয়োগ ও হুট করে পরিবর্তন ঘিরে অসন্তোষ, প্রশাসনিক অচলাবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপাচার্য পদে বারবার পরিবর্তন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও একাডেমিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ব্যাহত হয়। শিক্ষাবিদ ড. মনজুর আহমদ মনে করেন, উচ্চশিক্ষাকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে নিরপেক্ষ সার্চ কমিটির মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তি বাছাই করা অত্যন্ত জরুরি।
তবে সরকার রাজনৈতিক পরিচয়ে নিয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংসদে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, প্রার্থীর জ্যেষ্ঠতা, উচ্চতর একাডেমিক যোগ্যতা, গবেষণা ও প্রশাসনিক দক্ষতা দেখেই নিয়ম অনুযায়ী উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক এসব অচলাবস্থা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।