ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নীতিগত ঐকমত্য তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল তিতুমীর।

সোমবার (১২ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভায় অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

রাশেদ আল তিতুমীর বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি রূপরেখা ও বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীদের মৌলিক প্রস্তাবগুলোর মধ্যে চমৎকার সমঝোতা তৈরি হয়েছে। যেহেতু সংস্কারের মূল দায়িত্ব ও মালিকানা একটি রাজনৈতিক সরকার গ্রহণ করবে, তাই এই পদক্ষেপগুলো দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উপদেষ্টা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপের কথা বিবেচনা করে সরকার পুরোপুরি দাম বাড়ায়নি। সাবেক সরকারের আমলে দারিদ্র্য বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পরিবার কার্ড’-এর মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দারিদ্র্যের হার প্রায় ৫ শতাংশ কমানো সম্ভব হবে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

ব্যাংক খাতের অনিয়ম কাটিয়ে শৃঙ্খলা ফেরাতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা আইএফসিসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে পুনঃঅর্থায়নের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি শিক্ষিত ও তরুণ বেকারত্ব কমাতে ৭ শতাংশ ঋণাত্মক সুদে বন্ধ কলকারখানা চালু এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

থাই চেম্বারের সঙ্গে বৈঠকে কৃষি, ফল, দুগ্ধজাত পণ্য এবং হালাল খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখা গেছে। বাংলাদেশে পর্যাপ্ত হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে আম, কাঁঠাল ও লিচু নষ্ট হওয়া রোধে দ্বিপক্ষীয় সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কথা বলা হয়। এছাড়া চট্টগ্রামের সাথে থাইল্যান্ডের রেনং বন্দরের সামুদ্রিক যোগাযোগ গতিশীল করা এবং আসিয়ান এফটিএ (FTA) ও আরসিইপি (RCEP) কাঠামোর সুবিধা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে বহুমুখী উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের কাজ চলছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি জাপানের টয়োটা ও মারুবেনি এবং সিলিকন ভ্যালির প্লাগ অ্যান্ড প্লে-র মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। বর্তমানে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তার কথা ঘোষণা করেছে।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতিগত ধারাবাহিকতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা।