দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা 'যন্তর মন্তর ২.০' কর্মসূচি ঘিরে পুরো রাজধানী দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিক্ষোভ ঠেকাতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেওয়ায় দিল্লির স্বাভাবিক জনজীবন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

বিক্ষোভের মূল আয়োজকদের আটকে ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হয়েছে। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ মুম্বাই থেকে দিল্লির বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বিমান থেকেই তাকে এবং সংগঠনের অন্য শীর্ষ নেতাদের পুলিশ আটক করে। এছাড়া আন্দোলনকে সমর্থন জানাতে বিদেশ থেকে আসা জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও গুরুগ্রামের বাসা থেকে আটক করা হয়। কেবল রাজধানীতেই দেড় হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।

রাজধানীজুড়ে প্রায় ৩৫ হাজার অতিরিক্ত পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে যন্তর মন্তরের চার কিলোমিটারের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে এবং মেট্রো পরিষেবা ও বহু ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় কড়াকড়ির পাশাপাশি কনট প্লেসসহ কিছু প্রধান বাজারের দোকানপাট এবং সব মদের দোকান বন্ধ থাকায় রাজধানীতে এক ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে।

এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে সিজেপির সুরেই সমর্থন জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছেন যে এই সরকার ও সিইসি চলে যাবেন এবং এরপর গণতন্ত্রের মেরামত শুরু হবে। তবে কংগ্রেস দলীয়ভাবে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে নিজেদের দূরে রেখেছে।