ঢাকায় আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এ রাজনৈতিক বিরোধ ও সংঘাত নিরসনে ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা পুনর্মিলনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বক্তারা মনে করেন, সমাজের দীর্ঘমেয়াদি বিভাজন ও প্রতিশোধের চক্র কাটাতে পুনর্মিলন প্রয়োজন, তবে তার আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের বিচার, অপরাধের অনুশোচনা ও ক্ষমা প্রার্থনা আবশ্যক।
বিশেষজ্ঞদের মতামতের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. অপরাধের বিচার ও অনুশোচনা:
ইমেরিটাস অধ্যাপক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ্ চৌধুরী জানান, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তির রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। তবে তারা যদি অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চায়, সে ক্ষেত্রে সরাসরি গুরুতর অপকর্মে জড়িত নয় এমন নেতাকর্মীদের রাজনীতি করার সুযোগ বিবেচনার কথা আসতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কোনো অন্যায়ের ভুল স্বীকার বা অনুশোচনা প্রকাশ করেনি।
২. দায় স্বীকার ও বিভক্ত জাতি চিহ্নিতকরণ:
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, একটি বিভক্ত জাতি পারস্পরিক ধ্বংসাত্মক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকলে রাষ্ট্র হিসেবে এগোতে পারে না। তবে রিকনসিলিয়েশনের জন্য সবাইকে খোলামনে সামনে এসে নিজেদের দোষ স্বীকার ও অনুশোচনা ব্যক্ত করতে হবে। এখনো অন্যায়কারীদের মধ্যে অপরাধবোধের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, বরং প্রতিশোধের আস্ফালন রয়েছে।
৩. প্রতিশোধের চক্র ভাঙা ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ:
লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ উল্লেখ করেন, রিকনসিলিয়েশন না হলে দেশ প্রতিশোধের চক্রেই বন্দি থাকবে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ব্যাহত হবে। আওয়ামী লীগ ভুল স্বীকার না করে ভুল করলেও বিজয়ী বা বর্তমান সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে রিকনসিলিয়েশনের একটি উদ্যোগ শুরু করার। রাষ্ট্রপতি বা সংসদের মাধ্যমে এই উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
৪. আইনি পরিণতি ও বিচার:
কনভারসেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্পষ্ট করেন যে, আগে ফ্যাসিস্টদের বিচার নিশ্চিত হতে হবে, তারপর রিকনসিলিয়েশন নিয়ে ভাবা যাবে। সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের আইনি শাস্তি থেকে আড়ালের চেষ্টা করা হলে এই প্রক্রিয়া ব্যর্থ হতে বাধ্য।