দীর্ঘ তিন বছর বিরতির পর ভারতে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ ও ভারত।

আজ বৃহস্পতিবার ও আগামীকাল শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ১৬তম বাংলাদেশ-ভারত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ট্রেডের (জেডব্লিউজি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও দুদেশের বাণিজ্য গতিশীল রাখা, আমদানি-রপ্তানির বাধা দূর করা এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে এ বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছে। এর আগে ২০২৩ সালের ২৬-২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ১৫তম জেডব্লিউজি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

এবারের বৈঠকে আলোচনার প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:

১. পাটপণ্য ও সুতার শুল্ক সংক্রান্ত বিধিনিষেধ: বাংলাদেশের পাটপণ্যের ওপর ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক পুনর্নির্ধারণ এবং বাংলাদেশে ভারতীয় সুতা আমদানির বিধিনিষেধ নিয়ে দুপক্ষই আলোচনা করবে।

২. বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলা: ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি ছিল প্রায় ১০.৯৬ বিলিয়ন ডলার এবং বিপরীতে ভারতে রপ্তানি ছিল মাত্র ১.৭৫ বিলিয়ন ডলার, যার ফলে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় ৯.২১ বিলিয়ন ডলারে। এই ব্যবধান কমাতে বাংলাদেশ রপ্তানি বৃদ্ধি, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করা এবং স্থলবন্দর দিয়ে পরিবহণ সহজীকরণের ওপর জোর দেবে।

৩. বন্দর ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন: চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো, স্থলবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

৪. সেপা চুক্তিতে গতি আনার প্রত্যাশা: তিন বছর পর বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় থমকে থাকা ‘সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (সেপা) সম্পর্কিত আলোচনা নতুন গতি পেতে পারে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো ও প্রতিবন্ধকতা দূর করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও শিল্পের কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্বার্থে বাণিজ্য সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে সক্রিয় রাখা উভয় দেশের জন্যই জরুরি।