রথখোলাজুড়ে এখন উৎসবের আবহ। বিশাল রথে চলছে শেষ মুহূর্তের রং-তুলির কাজ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জা। সব প্রস্তুতির লক্ষ্য একটাই—১৬ জুলাই ঐতিহ্যের এই মহাযজ্ঞে অংশ নিতে আসা অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থীকে স্বাগত জানানো।
বাংলার লোকসংস্কৃতি, ধর্মীয় মহিমা আর অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য মিলনমেলা নিয়ে আগামী ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) থেকে ঢাকার ধামরাইয়ে শুরু হতে যাচ্ছে উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক শ্রীশ্রী যশোমাধব দেবের রথযাত্রা উৎসব।
চার শতকেরও বেশি সময় ধরে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা বহন করে আসছে ঢাকার ধামরাইয়ের শ্রীশ্রী যশোমাধবের রথযাত্রা। এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই ঐতিহাসিক উৎসবকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আয়োজক, প্রশাসন ও স্থানীয়রা।
আগামী ১৬ জুলাই বিকেলে ধামরাই পৌর এলাকার ঐতিহ্যবাহী রথখোলা থেকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে শ্রীশ্রী যশোমাধব দেবের রথযাত্রা। ভক্তরা পবিত্র রশি টেনে যশোমাধবকে নিয়ে যাবেন তাঁর প্রতীকী মাসির বাড়িতে।এরপর ২৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে উল্টো রথযাত্রা, যেখানে একই উৎসবমুখর পরিবেশে রথ টেনে যশোমাধবকে আবার নিজ মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হবে।
চার শতকের ঐতিহ্য বহনকারী এই রথযাত্রা আজ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি ধামরাইয়ের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরও উজ্জ্বল প্রতীক। হিন্দু সম্প্রদায়ের এই আয়োজনকে ঘিরে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। ফলে প্রতিবছরের মতো এবারও সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মিলনের বার্তা নিয়েই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা ও মাসব্যাপী রথমেলা।
লাখো মানুষের সমাগমকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) একটি বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!