নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁপিলা ইউনিয়নের বৃ-চাঁপিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মানসিক নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির মানসিক অবস্থার অবনতি হয়েছে দাবি করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তার বাবা।

তবে অভিযুক্ত শিক্ষিকা অভিযোগ অস্বীকার করে একে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চাঁপিলা ইউনিয়নের বৃ-চাপিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা. সুরাইয়া খাতুন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালে শ্রেণিশিক্ষিকা মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস আঁখি তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মানসিকভাবে হয়রানি করেন বলে অভিযোগ করেন শিশুটির বাবা মো. আবু সাঈদ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদৌস আঁখি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। সুরাইয়া আগে থেকেই অসুস্থ ছিল এবং শ্রেণিকক্ষে বিভিন্ন সময় অস্বাভাবিক আচরণ করত। তিনি কোনো শিক্ষার্থীকে মারধর বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করেননি।

তিনি আরও দাবি করেন, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছা. আঙ্গুরা বেগম ও মোছা. মোসলেমা বেগমের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে এ অভিযোগ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিদ্যালয়ের বই, খাতা, কলম, পেন্সিল, রাউটারসহ বিভিন্ন সরকারি সরঞ্জাম বিক্রি, বিদ্যালয় চলাকালে শ্রেণিকক্ষে প্রাইভেট পড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট ও প্রশংসাপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে। এসব অভিযোগেরও তদন্ত দাবি করেন তিনি।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. এরশাদ হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আখি ম্যাডামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা তিনি পাননি। তবে সহকারী শিক্ষিকা আঙ্গুরা বেগমের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় চলাকালে প্রাইভেট পড়ানোসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

সহকারী শিক্ষিকা মোছা. মোসলেমা বেগম বলেন, সুরাইয়া তাঁর ননদের মেয়ে। ঘটনার দিন পরীক্ষা চলাকালে অসুস্থ থাকায় তিনি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন না করে বারান্দায় বসেছিলেন। সুরাইয়া পরীক্ষার প্রশ্ন বুঝতে না পেরে তাঁর কাছে এসেছিল। এ সময় শ্রেণিকক্ষের দায়িত্বে থাকা শিক্ষিকা আঁখি তাকে ধমক দিয়ে বাইরে থাকার কারণ জানতে চান। এতে সুরাইয়া ভয় পায়। পরে বাসায় গিয়ে বাবাকে বিষয়টি জানালে তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে আঁখি ম্যাডামকে মেয়েকে কিছু না বলার অনুরোধ করেন। মোসলেমা বেগমের দাবি, পরদিন আঁখি ম্যাডাম সুরাইয়াকে আলাদা একটি কক্ষে নিয়ে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। তবে তিনি নিজে ওই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেননি বলে স্বীকার করেন।

এদিকে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছা. আলেয়া বেগম ও মোছা. শেফালী বেগম ঘটনাটিকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, আঁখি ম্যাডাম কাউকে মারধর বা ধমক দেন না। ঘটনার দিন পরীক্ষা চলাকালে সুরাইয়া বারবার শ্রেণিকক্ষের বাইরে যাওয়ায় তাকে বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল গফুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ছুটিতে থাকায় এবং তাঁর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সহকারী শিক্ষিকা আঙ্গুরা বেগম প্রশিক্ষণে থাকায় তাঁর বক্তব্যও নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে গুরুদাসপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাছির হোসেন বলেন, "অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।