গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের এরশাদনগরে ছাত্রদল নেতা রিফাত দেওয়ান ও তার বন্ধু জুম্মনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। টিভি আনোয়ার ও তার ভাগিনা মঞ্জুর নির্দেশে একদল লোক তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের এরশাদনগর দলীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী রিফাত দেওয়ান অভিযোগ করে বলেন, ফুটবল খেলতে মাঠে যাওয়ার পথে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। পাশাপাশি টঙ্গী থানা যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থী কামরুল ইসলাম কামুর সঙ্গে চলাফেরা না করার জন্য তাকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, হামলায় আহত তার বন্ধু জুম্মন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ সময় বক্তব্য দেন টঙ্গী থানা যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম কামু। তিনি বলেন, তিনি অত্র ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী। তার দাবি, প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আনোয়ার হোসেন ওরফে টিভি আনোয়ার তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
কামরুল ইসলাম কামু আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক কারণে হামলা-মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ সময় তাকে জেল খাটতে হয়েছে এবং বাড়িছাড়া থাকতে হয়েছে। এমনকি বাড়িতে থাকতে না পারায় নিজের মায়েরসহ অনেকের জানাজায়ও অংশ নিতে পারেননি বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আনোয়ার হোসেন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন। পাশাপাশি আনোয়ার হোসেনের ভাগিনা মঞ্জুর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র হত্যার ঘটনায় বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, মঞ্জু ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন। এমন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি যুবদলের পরিচয় দেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কামরুল ইসলাম কামু।
সংবাদ সম্মেলন শেষে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী এবং ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ সময় বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং আহতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।