নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে জেলা জুড়ে সোচ্চার হয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। ঘাতকদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন নিহতের মা।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১টায় নেত্রকোণা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে 'সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ'-এর ময়মনসিংহ বিভাগীয় ইউনিটের উদ্যোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে জেলার দুই শতাধিক সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী অংশগ্রহণ করেন। এ সময় নিহত সাংবাদিক আলিফ ফকিরের মা ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তার জন্য এক মারাত্মক হুমকি। সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তাঁরা।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন 'সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ'-এর চেয়ারম্যান এবং দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের পরিচালক (আইন ও মানবাধিকার) মোহাম্মদ আলী আবির, পরিচালক (বিচার ও সালিশ) জামাল উদ্দিন খান এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেন মানিক।

এছাড়া মানববন্ধনে ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া পলাশ, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি মো. ইয়াহিয়া আরিফ, কার্যকরী সভাপতি সজীব রাজভর বিপিন, সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনূর ইসলাম রাব্বিসহ নেত্রকোণা জেলা প্রেসক্লাব, দুর্গাপুর প্রেসক্লাব ও শ্যামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং বিভিন্ন উপজেলার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, "সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার না হলে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হবে। তাই আলিফ ফকির হত্যার বিচার দাবির এই সংগ্রামকে একটি বৃহত্তর সাংবাদিক নিরাপত্তা আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।"

মানববন্ধনে বক্তারা সংগঠনের উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন ও সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

কর্মসূচি শেষে আয়োজক নেতৃবৃন্দ নেত্রকোণা জেলার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় পুলিশ সুপার মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন বলে জানান আয়োজকরা।