আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সঠিক ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে না পারার কারণে সারাদেশে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি এবং হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।
শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর তোপখানা রোডে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ যুব মিশন’-এর কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বক্তব্যে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, "দেশের সাধারণ মানুষ বর্তমানে চরম অনাস্থা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো চুরির আতঙ্কে রাতে ঘুমাতে পারছে না। সামান্য গরু-বাছুর কিংবা হাঁস-মুরগিটুকু বাঁচাতে মানুষ রাত জেগে পাহারায় বসে থাকছে, যা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপমানজনক।"
তিনি আরও যোগ করেন, মাদকের অবাধ বিস্তার দেশের তরুণ সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা ও অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে দেশজুড়ে এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে যুব মিশনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক সালমান খান বাদশা বলেন, জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমঅবনতি, মাদক নির্মূলে ব্যর্থতা এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়ার দায় সরকার এড়াতে পারে না। এই চরম ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।"
সভায় অন্যান্য বক্তারা অপরাধ, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে যুবসমাজকে সামাজিক আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান। একই সাথে সংগঠনের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার উদ্দেশ্যে যুব মিশনের কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির কার্যক্রমের সমন্বয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উক্ত সভায় যুব মিশনের কেন্দ্রীয় সদস্য জহিরুল ইসলাম সোহাগ, মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল ইসলাম সজীব, সাংগঠনিক সচিব মো. সাদ্দাম হোসেন এবং মহানগর সদস্য মো. আদেল উদ্দীনসহ যুব মিশনের বিভিন্ন স্তরের নেতারা বক্তব্য দেন।