প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন টোকিও সফরের ঠিক আগমুহূর্তে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কোনো সরকারপ্রধানের বিদেশ সফরের আগে ওই দেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে 'নজিরবিহীন' বলে মনে করছেন সাবেক ও বর্তমান কূটনীতিকরা। সফরের কূটনৈতিক বিষয় ও সমন্বয় রক্ষার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) মো. নজরুল ইসলামকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে টোকিও পাঠানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গত ১৫ অক্টোবরের নির্দেশনায় দাউদ আলী ইতোমধ্যে দেশে ফিরেছেন। তবে ঠিক কী কারণে তাঁকে এই সফর থেকে সরিয়ে রাখা হচ্ছে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা টোকিও দূতাবাসের কোনো কর্মকর্তা স্পষ্ট করে কিছু জানাননি। সাবেক কূটনীতিকদের মতে, সফরের মূল আলোচনার কেন্দ্রে থাকা রাষ্ট্রদূতকে বাদ দেওয়াটা আয়োজক দেশ হিসেবে জাপানের কূটনৈতিক শিষ্টাচারের দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগেও দাউদ আলীকে কেন্দ্র করে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন বিরোধী নেতা (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমানকে সহায়তার অভিযোগে তাঁকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। ১৭ বছর পর এবার স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগেই আবারও ঢাকায় তলব করা হলো তাঁকে। তবে সফর শেষে তিনি পুনরায় টোকিওতে নিজ দায়িত্বে ফিরতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তারেক রহমানের চতুর্থ বিদেশ সফর। আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হবে। সফরকালে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নসহ বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে।