বাল্যবিবাহ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং কন্যাশিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষ্যে সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর-২-এর আলোক অডিটোরিয়ামে 'মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন' (এমজেএফ) আয়োজিত এক সংলাপে বক্তারা এ দাবি জানান।

জাতিসংঘের নির্ধারিত প্রতিপাদ্য ‘বাল্যবিবাহ বন্ধ করি, কন্যাশিশুর অধিকারে বিনিয়োগ করি’ সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রান্তিক কন্যাশিশু, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন। সংলাপে কিশোরী ও কন্যাশিশুরা নিজেদের অভিজ্ঞতা, সামাজিক বৈষম্য, নিরাপত্তাহীনতা এবং ভবিষ্যৎ গড়ার পথে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা সরাসরি তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, "বাল্যবিবাহ কন্যাশিশুর মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন। এর ফলে তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।" তিনি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি বাড়ানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমজেএফের সহকারী প্রকল্প ব্যবস্থাপক লাইসা মাহমুদ হেমা। ইউনিসেফ, ইউএনএফপিএ ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান:

  • বাংলাদেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭.২ শতাংশের বিয়ে হয় ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে এবং ১৩.৪ শতাংশের বিয়ে হয় ১৫ বছরের আগে।

  • প্রাথমিক স্তরে শিক্ষা সমাপ্তির হার ৯১.৩ শতাংশ হলেও, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে তা নেমে আসে মাত্র ৪১.১ শতাংশে।

সংলাপ পর্বে বাক ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কিশোরী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কিশোরী আয়েশা আক্তার ব্রেইল ও অডিও শিক্ষা সামগ্রী নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বলেন, "প্রতিবন্ধী কন্যাশিশুদের করুণা নয়, প্রয়োজন সমান অধিকার ও সুযোগ।" এছাড়া শিক্ষার্থীরা মাসিক সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার, খেলাধুলায় অসম সুযোগ এবং ডিজিটাল বৈষম্যের বিষয়গুলো তুলে ধরে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নির্বাহী পরিচালক রোকসানা সুলতানা, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের পরিচালক নিশাত সুলতানা এবং সেরাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত।