উন্নত জীবন ও ভালো বেতনের আশ্বাসে ভূমধ্যসাগরের দেশ মাল্টায় গিয়ে ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হয়েছেন এক বাংলাদেশি প্রবাসী। মাল্টার একটি রেস্তোরাঁয় মাসিক ৯০০ ইউরো বেতনে ওয়েটারের কাজ দেওয়ার কথা বলে তাকে দেশটিতে নিয়ে যান নাজমুল ইসতিয়াক নামের এক মানবপাচারকারী দালাল। কিন্তু সেখানে গিয়ে কোনো বেতন না পাওয়ায় বেঁচে থাকার জন্য শেষ পর্যন্ত বারে বোতল কুড়াতে বাধ্য হন ওই ভুক্তভোগী।
গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘মাল্টা টুডে’র এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাংলাদেশি প্রবাসীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত দালাল নাজমুল ইসতিয়াককে গ্রেপ্তার করেছে মাল্টা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থ আত্মসাৎ ও বিনা পারিশ্রমিকে জোরপূর্বক কাজ করানোর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে ওই প্রবাসী জানান, ফেসবুকে দেওয়া একটি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মাল্টায় ওয়েটার ও বার অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে লোক নেওয়ার খবর দেখতে পেয়ে তিনি দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দালালের অফিসে ভুয়া ইন্টারভিউর পর তাকে প্রতি মাসে ৯০০ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা) এবং সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। পরে কাজ শুরুর পর থেকেই নানা বাহানায় দালালের আচরণ ও চুক্তির শর্ত বদলাতে থাকে।
প্রথমে বারের কাজের কথা বললেও পরে রেস্তোরাঁয় থালাবাসন ধোয়ার কাজ দেওয়া হয় এবং বেতন কমিয়ে ৮০০ ইউরো করা হয়। এর থেকেও আবার থাকা-খাওয়ার নামে ৪০০ ইউরো কেটে রাখার কথা বলা হয়। এমনকি সপ্তাহে ৮ ঘণ্টা কাজের চুক্তি থাকলেও তাকে দিয়ে দৈনিক ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত (বিকাল ৪টা থেকে রাত ৪টা পর্যন্ত) সপ্তাহে ছয় দিন হাড়ভাঙা খাটুনি খাটানো হতো।
টানা চার মাস একটানা কাজ করার পরও তাকে কোনো বেতন দেওয়া হয়নি। দালালের কাছ থেকে হাতখরচ হিসেবে মাঝে মধ্যে ৫ বা ১০ ইউরো চেয়ে নিতেন তিনি। সবমিলিয়ে চার মাসে তিনি মাত্র ১৫০ ইউরো পান, যার একটি অংশ আবার দেশে তার অসুস্থ শাশুড়ির চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছিল।
পরবর্তীতে উপায় না পেয়ে তিনি নতুন চাকরির সন্ধান শুরু করেন এবং পেটের দায়ে বিভিন্ন বারে গিয়ে ফেলে দেওয়া বোতল কুড়িয়ে সেগুলো বিক্রি করতে শুরু করেন। বোতল বিক্রি করে মাস শেষে তার মাত্র ২০ ইউরো আয় হতো। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীসহ আরও কয়েকজনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাল্টা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দালাল নাজমুল ইসতিয়াককে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয়।