আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের সর্বশেষ 'ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক' প্রতিবেদনে ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে ৩ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। যদিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ বৈশ্বিক অর্থনীতিকে কিছুটা গতি দিচ্ছে, তবুও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং সরকারি ঋণের বৈশ্বিক চাপ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ থেকে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৭ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এছাড়া, চলতি বছর বৈশ্বিক ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে, যা ২০২৭ সালে কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নামতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৩০ ডলারে উঠলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হিসাবও কমিয়েছে সংস্থাটি। আইএমএফের নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ২ শতাংশ, যা তাদের আগের ৪ দশমিক ৩ শতাংশের পূর্বাভাসের চেয়ে কম।
এআই প্রযুক্তি, ডেটা সেন্টার ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতে বিনিয়োগের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি সহায়তা পাচ্ছে। তবে এই বিনিয়োগের প্রত্যাশিত সুফল না এলে নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার ঘটলে ২০২৯ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জিডিপি আরও শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বাড়তে পারে।
আইএমএফের পূর্বাভাসে চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৩ শতাংশ, চীনের ৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ভারতের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানি সংকটের কারণে সৌদি আরবসহ বেশ কয়েকটি দেশের অর্থনীতিতে সংকোচনের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ ও বাজেট ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আইএমএফ সব দেশকে টেকসই অর্থব্যবস্থা গঠন এবং মধ্যমেয়াদি ঋণ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।