পাকিস্তানের মুলতানে ‘রেহমান বাবা এক্সপ্রেস’ নামের একটি যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে কমপক্ষে ৬ জন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সকালে মর্মান্তিক এই ট্রেন দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও টিভির বরাতে জানা যায়, করাচি থেকে পেশোয়ারগামী ট্রেনটি মঙ্গলবার ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে মুলতানের শের শাহ ব্রিজের কাছাকাছি পৌঁছালে এর বগিগুলো লাইনচ্যুত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
উদ্ধারকারী সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটির মোট ১৪টি বগির মধ্যে ১৩টি বগি ইতোমধ্যে পুনরায় লাইনে তোলা সম্ভব হলেও একটি বগি এখনও পড়ে আছে। ঘটনাস্থল থেকে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে মুলতানের নিস্তার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে চিকিৎসাধীনদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত না জানানোয় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রীর ভাষ্যমতে, দুর্ঘটনার ঠিক আগে ট্রেনের ৯ নম্বর বগির নাটবল্টু ঠিক করেছিলেন রেলকর্মীরা। এর পরপরই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে ঠিক কী কারণে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হলো, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
এদিকে ভয়াবহ এই ট্রেন দুর্ঘটনার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে দুর্ঘটনাস্থলের উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করছেন বলে জানিয়েছে জিও টিভি।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালে সিন্ধের নওয়াবশাহের কাছে হাজারা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়ে ৩০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। সেই দুর্ঘটনার তিন বছর পর আবারও একই ধরনের বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনায় দেশটির রেলওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।