ফেসবুকে নারী সেজে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে এবং পরবর্তীতে ভুয়া বিয়ের নাটক সাজিয়ে ইতালি প্রবাসী এক ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচিত হয়েছে।
প্রায় চার মাস স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক বজায় রাখার পর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে উন্মোচিত হয় যে, 'সুমাইয়া আক্তার' ছদ্মনামের কথিত কনে আসলে শান্ত আলী (২০) নামের এক তরুণ।
প্রতারণার শিকার ব্যক্তি রাজধানীর বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সি ইতালি প্রবাসী। প্রায় ছয় মাস আগে ফেসবুকে 'সুমাইয়া আক্তার' নামের ভুয়া আইডি থেকে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে প্রেমে রূপ নেয়। চার মাস আগে তারা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে 'বিয়ে' বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর কথিত স্ত্রী পরিচয়ে নানা অজুহাতে বিকাশের মাধ্যমে প্রবাসীর কাছ থেকে ৩ লাখেরও বেশি টাকা হাতিয়ে নেন শান্ত। বিশ্বাস অর্জনের জন্য শান্তর বাবা শহিদুল ইসলাম প্রবাসীর সঙ্গে 'শ্বশুর' সেজে কথা বলতেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে নাটোরের লালপুর উপজেলার গন্ডবিল গ্রামে অভিযান চালিয়ে পুলিশ শান্ত আলী ও তার বাবা শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় প্রতারণায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারের পর থানায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রবাসী ব্যক্তি শান্তর মোবাইলে ফোন করলে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারেন যে তার 'স্ত্রী' প্রকৃতপক্ষে একজন পুরুষ।
লালপুর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতারণা ও আইডি হ্যাকিং চক্রের সক্রিয় সদস্য। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।