দীর্ঘ তিন দশক ধরে ঢাকাই চলচ্চিত্রের পর্দায় হাসির ফোয়ারা ফোটানো কিংবদন্তি অভিনেতা দিলদারের আজ ২৩তম প্রয়াণ দিবস। ২০০৩ সালের এই দিনে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তাকে হারিয়ে আজও ঢাকাই চলচ্চিত্র এক অনন্য কৌতুকাভিনেতাকে খুঁজে ফেরে।
১৯৪৫ সালের ১৩ জানুয়ারি চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন দিলদার। অভিনয়ের প্রতি ছোটবেলা থেকেই ছিল প্রচণ্ড আগ্রহ। ২০ বছর বয়সে তিনি প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। তবে তার পেশাদার চলচ্চিত্র জীবন শুরু হয় ১৯৭২ সালে ‘কেন এমন হয়’ সিনেমার মাধ্যমে। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
দিলদার মানেই ছিল দর্শকের জন্য বাড়তি আনন্দ। ‘বেদের মেয়ে জোসনা’, ‘বিক্ষোভ’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘কন্যাদান’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘সুন্দর আলীর জীবন সংসার’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘আনন্দ অশ্রু’ ও ‘শান্ত কেন মাস্তান’-এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তার অসামান্য জনপ্রিয়তার কারণে তাকে কেন্দ্রীয় চরিত্র করে নির্মিত হয়েছিল ‘আব্দুল্লাহ’ চলচ্চিত্রটি, যা দর্শকের হৃদয়ে দারুণ সাড়া ফেলেছিল।
জীবনের শেষ সময়ে এসে তিনি তার কাজের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। ২০০৩ সালে ‘তুমি শুধু আমার’ সিনেমার জন্য তিনি ‘সেরা কৌতুক অভিনেতা’ হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
দিলদারের প্রয়াণের পর ঢাকাই চলচ্চিত্রে কৌতুক অভিনয়ের ধারাটি যেন অনেকটা পথ হারিয়েছে। পরবর্তী সময়ে যারা এই ধারায় কাজ করেছেন, তাদের অনেকেই দর্শকদের সেই চিরাচরিত জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই আজও দর্শক কোনো কৌতুক দৃশ্যের মুখোমুখি হলে বারবার দিলদারের অভাব অনুভব করেন।
আজকের এই দিনে এই মহান অভিনেতার স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!