মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) গত ১২ ও ১৩ জুলাই জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি-র দাবি, ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক বোমা হামলার জবাবেই এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও আইআরজিসি-র বিবৃতির বরাতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী:

প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বেশ কিছু জ্বালানি ডিপো ও গোলাবারুদ সংরক্ষণাগারে আগুন ধরে গেছে। জর্ডান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা আকাশসীমা অতিক্রমকারী চারটি ক্ষেপণাস্ত্র গুলি করে ভূপাতিত করেছে।

আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটির জ্বালানি ট্যাঙ্ক এবং প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান। এছাড়াও আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটির কৌশলগত রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের তথ্য দেওয়া হয়েছে। কুয়েত সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা আকাশসীমায় ‘শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু’ মোকাবিলা করছে।

শেখ ইসা বিমানঘাঁটির বেশ কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, পি-৮ বিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং ড্রোন কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাহরাইনে এ সময় কয়েক দফায় সাইরেন বাজানো হয়।

কাতার ও ওমানেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। কাতারে শেলের আঘাতে সাধারণ মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’ কার্যত ভেঙে পড়ার পর থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল ও একটি কন্টেইনার জাহাজকে কেন্দ্র করে আইআরজিসি-র অভিযানের পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, নৌ-স্থাপনা এবং গোলাবারুদ ডিপো লক্ষ্য করে প্রায় ১৪০টি লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলা চালিয়েছে।

ইরানের সামরিক কমান্ড ঘোষণা দিয়েছে যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই ‘প্রতিশোধমূলক অভিযান’ অব্যাহত থাকবে। তেহরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই কর্মকাণ্ডকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে যথাযথ জবাব দেওয়ার কথা বলেছেন।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই সরাসরি সামরিক সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্য ফের একটি বড় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।