টানা ভারী বর্ষণে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়া, সড়ক ভাঙন এবং দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এর মধ্যে পাহাড় ধসের ঝুঁকি এবং এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি সদর, বাইশারী, ঘুমধুম, দোছড়ি ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। সোমবার দুপুর থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর মঙ্গলবার সকাল থেকে পুনরায় উপজেলা সদর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এতে মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া, বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ এবং দৈনন্দিন ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

অবিরাম বৃষ্টিতে রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়ক এবং বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন সড়কসহ বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে। সোনাইছড়ি, দোছড়ি ও বাইশারী ইউনিয়নের খালের তীব্র স্রোতে একাধিক স্থানে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। সংস্কারাধীন সড়কগুলো সময়মতো সম্পন্ন না হওয়ায় বর্ষায় সেগুলো এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মাইকিং করে জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে এবং অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও আরও বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের প্রয়োজন হলে নিকটস্থ ইউনিয়ন পরিষদে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে এবং তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিটি ইউনিয়নে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”

বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে বলেও জানান তিনি। স্থানীয়রা মনে করছেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত এবং পাহাড় ধসপ্রবণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে পারলে চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে।