টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর উপজেলার জলছত্র এলাকা থেকে রতন সিংহ (৫০) নামের এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসা থেকে অন্তত ৭ কিলোমিটার দূরে অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির পাশের জলছত্র বাজার এলাকায় সড়কের পূর্ব পাশে একটি সজনে গাছে তার মরদেহ ঝুলছিল।
নিহত রতন সিংহ মধুপুর পৌর শহরের আঙ্গিনাপাড়া এলাকার মৃত জগদীশ চন্দ্র সিংহের ছেলে। তিনি পৌর শহরের দৈনিক বাজারে একটি বরফ কল পরিচালনার পাশাপাশি পাথর সরবরাহের ঠিকাদারি কাজ করতেন। বাসা থেকে এত দূরে তার এই ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়ার ঘটনাটিকে অত্যন্ত রহস্যজনক বলে মনে করছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে রতন বরফ কল থেকে বের হন। বরফ কল থেকে বের হয়ে তিনি বাসায় না ফিরে অন্য কোথাও যান। ছেলে উৎস সিংহ তাকে দ্রুত বাসায় ফিরে যাওয়ার কথা বললে তিনি বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন বলে জানান তার মেয়ে উপমা সিংহ। কিন্তু অনেক সময় পরও তিনি বাসায় না ফেরায় পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পায়। পরবর্তীতে রাত ১২টার দিকে তার ফোন থেকেই অন্য কারো নম্বর থেকে ফোন করে মৃত্যুর খবরটি জানানো হয়। উপমা অভিযোগ করেন, বেশ কিছুদিন ধরে আর্থিক লেনদেন ও টাকা-পয়সা নিয়ে পরিবারের বড়দের সাথে তার বাবার ঝামেলা চলছিল।
নিহতের ছোট ভাই যতন সিংহ জানান, এত রাতে রতনের ওই এলাকায় যাওয়া এবং এই মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত রহস্যজনক, কেউ তাকে ডেকে নিয়েছিল কি না তা তারা বুঝতে পারছেন না। ময়মনসিংহ শহরে বসবাসকারী বড় ভাই ঠিকাদার উত্তম কুমার সিংহ খবর পেয়ে ছুটে এলেও এ ঘটনার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। তবে তাদের যৌথ ব্যবসার হিসাব-নিকাশের সাথে এ ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি দাবি করেন।
জলছত্র পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাতে জলছত্র বাজার এলাকায় সড়কের পাশে একটি সজনে গাছের ডালের সঙ্গে রতন সিংহকে ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার বিষয়ে অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) বেলাল জানান, নিহত রতনের মুখ থেকে মদের গন্ধ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়না তদন্তের প্রক্রিয়া শুরুসহ এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!