তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে নীলফামারীর হিমাগারগুলোতে সংরক্ষিত প্রায় ৭৭ হাজার টন আলু নষ্ট হওয়ার তীব্র শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে হিমাগার মালিকদের পাশাপাশি চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় আলুচাষিরা, বিশেষ করে সংরক্ষিত প্রায় ৪০ হাজার টন বীজ আলু ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগামী মৌসুমে কৃষকদের চাষাবাদে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আলু ভালো রাখতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি হলেও কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় হিমাগারগুলোর শীতলকরণ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর চালিয়ে মেশিন সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও তীব্র গরমের কারণে কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে একদিকে অতিরিক্ত জেনারেটর ও শ্রম খরচ বেড়ে পরিচালনা ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে আলু নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

শাওন হিমাগারের ম্যানেজার নাহিদ হাসান জনি জানান, মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো শীতলকরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং পুনরায় শুরু থেকে মেশিন চালু করতে হয়, যা দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালিয়ে সামাল দেওয়া কঠিন। উত্তরা হিমাগারের ব্যবস্থাপক দীপু রায় জানান, গরমের কারণে এমনিতেই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে মেশিন বেশি সময় চালাতে হয়, তার ওপর লোডশেডিং হলে একটি কক্ষ ঠান্ডা করতে গিয়ে বারবার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

চওড়া বড়গাছা এলাকার কৃষক রফিক ইসলাম ও ব্যবসায়ী রাসেল আলী বলেন, আগামী মৌসুমের জন্য হিমাগারে বীজ আলু রেখে তারা চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এবং জেনারেটরে সব মেশিন একসঙ্গে চালানো সম্ভব না হওয়ায় আলু নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারীতে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৫৩ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। চাহিদা ও সরবরাহের এই ঘাটতির কারণেই জেলায় লোডশেডিং বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হিমাগারগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষি ও ব্যবসায়ীরা।