দীর্ঘদিনের পুরনো অপহরণ ও চাঁদাবাজির একটি মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে ফেনী জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি কাজী জামশেদুর রহমান ফটিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ফেনীর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিন আবেদন করেছিলেন।
ফেনী আদালত পুলিশের পরিদর্শক এসএম আতিক উল্লাহ জানান, ২০১১ সালে ফেনী মডেল থানায় দায়ের করা অপহরণ ও চাঁদাবাজির ওই মামলায় পুলিশ একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে ফটিকের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছিল। পরবর্তী সময়ে জামিনে গিয়ে দীর্ঘদিন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক মো. জাহিদ হোসাইন তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এছাড়া ২০২৫ সালে দাগনভূঞা থানায় দায়ের করা মারামারির আরেকটি মামলায়ও এ দিন তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান জানান, ফটিকের বিরুদ্ধে মারামারি, অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে থানায় ১০টির বেশি মামলা রয়েছে।
এর আগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গত বছরের ৪ মার্চ কাজী জামশেদুর রহমান ফটিককে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
উল্লেখ্য, দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে পরিবেশমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর ভাই এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেনের সঙ্গে ফটিকসহ স্থানীয় বিএনপির একটি পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে। এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে বিগত বছরগুলোতে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করেও দুইপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!