খুলনায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম ভাঙিয়ে চিকিৎসক, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করার অভিযোগে হাসিবুর রহমান ফরাজী ওরফে হাসিব খান (২৭) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ৪টি মোবাইল ফোন, ৬টি সিমকার্ড ও নগদ ১১ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া এসব তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, খুলনা মহানগরীতে সক্রিয় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন থানায় বেশ কিছু সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করে পুলিশ দেখতে পায়, কিছু নির্দিষ্ট নম্বর থেকে ফোন করে কুখ্যাত 'বি-কোম্পানি' বা 'গ্রেনেড বাবু'র নাম ভাঙিয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

পরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির অবস্থান চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর এলাকায় শনাক্ত করা হয়। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৩টার দিকে খুলনা গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল চট্টগ্রাম মহানগরীর মধ্যম হালিশহরের নীলাচল আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাসিবুরকে গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসিব জানিয়েছে, সে মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন সিমকার্ড ব্যবহার করে খুলনার চিকিৎসক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন কোম্পানির ম্যানেজারদের টার্গেট করে হুমকি দিয়ে আসছিল। সে একসময় স্থানীয় সন্ত্রাসী আশিক গ্রুপের প্রধান আশিকের বাসায় ভাড়া থাকায় তার গ্যাংয়ে যুক্ত হয়। পরবর্তীতে আশিকের সঙ্গে সম্পর্ক অবনতি হলে সে খুলনা ছেড়ে চট্টগ্রামে পালিয়ে যায় এবং সেখানে বসে 'বি-কোম্পানির' নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে সে বিভিন্ন বিকাশের দোকানে নিজের পরিচয় দিত পোল্ট্রি ব্যবসায়ী হিসেবে এবং বলত যে তার ব্যবসার টাকা বিভিন্ন স্থান থেকে আসছে।

পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধার হওয়া ডিভাইস ও সিমকার্ডগুলোর কললিস্টসহ বিভিন্ন ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার হাসিবুরের বিরুদ্ধে লবণচরা, সোনাডাঙ্গা ও খুলনা সদর থানায় অস্ত্র আইন, হত্যা, চুরি, মারামারি ও চাঁদাবাজিসহ মোট ৬টি মামলা রয়েছে।

খুলনাবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে গোয়েন্দা প্রধান বলেন, কেউ কোনো ধরনের অনৈতিক বা চাঁদার দাবি জানালে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করুন অথবা সাধারণ ডায়েরি করুন। খুলনার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দমনে পুলিশ অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং কোনো সন্ত্রাসীর ঠাঁই এই শহরে হবে না।