সিলেট টেস্টে দারুণ এক দ্বিশতক হাঁকিয়ে বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ এনে দিলেও বোলারদের ব্যর্থতায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রথম ইনিংসে ৩০ রানে পিছিয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংসে কোনো উইকেট না হারিয়েই বাংলাদেশের রান টপকে লিড নিয়েছে।
চতুর্থ দিনের খেলা চলাকালীন এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ বিনা উইকেটে পঞ্চাশ রান ছাড়িয়ে গেছে। ওপেনিংয়ে নামা ব্র্যান্ডন কিং ও জোশুয়া ডা সিলভা দারুণ আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করে হাফ সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশি বোলারদের পেস ও স্পিন কোনো কিছুতেই এই জুটি ভাঙা সম্ভব হচ্ছে না। একাদশ ওভারের চতুর্থ বলে তাসকিন আহমেদকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ক্যারিবীয়দের লিড এনে দেন ব্র্যান্ডন কিং। এর আগে তৃতীয় দিন শেষে ৪ ওভারে বিনা উইকেটে ৭ রান সংগ্রহ করেছিল উইন্ডিজ।
এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১১১.৫ ওভারে ৯ উইকেটে ৩৮৬ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। দলের পক্ষে মহাকাব্যিক এক ইনিংস খেলে ৩১৫ বলে অপরাজিত ২৪২ রান করেন তাওহীদ হৃদয়। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি, যেটিকে তিনি দারুণ এক ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেন। ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পাওয়ায় সাদমান ইসলাম ব্যাটিংয়ে নামতে না পারায় বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয় ৯ উইকেটে। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের প্রথম ইনিংসে করেছিল ৩৫৬ রান।
তৃতীয় দিনে ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে খেলা শুরু করা বাংলাদেশ শুরুতেই মুশফিকুর রহিম (৩৪) ও লিটন দাসের দ্রুত উইকেটে কিছুটা বিপদে পড়ে। এরপর হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজের (১৬) জুটি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও তা বেশিক্ষণ টেকেনি। হাসান মাহমুদও দ্রুত বিদায় নিলে ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে বাংলাদেশ। তবে অষ্টম উইকেটে তাইজুল ইসলামকে (২২) সঙ্গে নিয়ে ১১৭ রানের জুটি গড়েন হৃদয়। এরপর নবম উইকেটে তাসকিন আহমেদকে (১২) সঙ্গে নিয়ে আরও ৮৫ রান যোগ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২ রানের সুবাদে ৩৮৬ রানের সম্মানজনক সংগ্রহ পায় টাইগাররা।
তবে প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবীয় ওপেনারদের দৃঢ়তায় সেই সুবিধা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ দল।