আসন্ন ডিসেম্বরে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলায় পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেন, পদ্মার পানি কেবল পানি নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষ, পরিবেশ, কৃষি ও সার্বিক অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত।

শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালি পৌরসভায় রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পাশে আয়োজিত পথসভা ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কাটাখালি পৌরসভা এনসিপির আহ্বায়ক মাসউদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন।

আখতার হোসেন তাঁর বক্তব্যে ১৯৭৬ সালে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ফারাক্কা ব্যারেজ চালুর পর থেকেই পদ্মার শাখা-উপনদীগুলোতে পানির প্রবাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর ফলে দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা অঞ্চলে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি উঠে আসছে এবং দেশের কৃষি অর্থনীতি ধ্বংসের চক্রান্ত চলছে। বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করার কোনো ষড়যন্ত্র দেশের মানুষ মেনে নেবে না। প্রয়োজনে মাওলানা ভাসানীর মতো আবারও লংমার্চ কর্মসূচি দেওয়া হবে।

দেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন ও গুম-খুনের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে ২৪-এর অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ নতুন শাসনব্যবস্থা ও রাষ্ট্র সংস্কার চেয়েছিল। কিন্তু বর্তমান বিএনপি সরকার গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের স্বার্থে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন, তা সরকারি ও বিরোধী দলের সকলের সমঝোতা বা ভোটাভুটির ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া উচিত। কিন্তু এ নিয়ে কোনো দুরভিসন্ধি করা হলে তা বরদাশত করা হবে না।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন রাজশাহী জেলা এনসিপির আহ্বায়ক এম এ সবুর ও সদস্য সচিব নহিদুল ইসলাম সাজুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।