চট্টগ্রাম নগরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ ব্যবহার এবং নানা অনিয়মের দায়ে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ফুলকলিসহ তিনটি খাদ্য প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করে এই আদেশ দেন আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা। নিরাপদ খাদ্য আইন ও হোটেল-রেস্তোরাঁ আইন লঙ্ঘন করায় এই অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযানে ফুলকলি ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে লেবেল ও মেয়াদবিহীন বাটার ব্যবহার, ডালডায় পলিথিন ও ময়লা, পোড়া তেল দিয়ে চানাচুর ও মটরভাজা তৈরি এবং উৎপাদনস্থলে মাছি-তেলাপোকার বিচরণের প্রমাণ পাওয়া যায়। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৫৮ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ছয় লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে সাত দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ‘শপিং ব্যাগ সুপারশপ’-এ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মেজবান রান্না, তেলে ময়লা, খাদ্যপণ্যের পাশে ইঁদুর মারা ওষুধ ও পচা মরিচ সংরক্ষণের পাশাপাশি খোসপাঁচড়ায় আক্রান্ত কর্মী দিয়ে মসলা প্রস্তুত করার প্রমাণ মেলে। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে তিন লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শিশুদের খেলনা বিক্রির স্থান থেকে মেজবানির মাংসের পাতিল সরিয়ে আলাদা স্থানে রাখার নির্দেশনা বাস্তবায়নের প্রমাণ আগামী ১৫ নভেম্বর আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ‘কাহওয়া ক্যাফে’-তে কেকের ওপর মুরগির নখ পাওয়া যায়। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ও ময়লাযুক্ত খামি, খোলা ডাস্টবিন, পচা বিটরুট সংরক্ষণ এবং ‘ম্যাংগো ফ্লেভার ড্রিংকস’কে খাঁটি ম্যাংগো ড্রিংকস হিসেবে বিক্রির অভিযোগে বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন, ২০১৪-এর ১৯ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মেট্রোপলিটন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অনিয়ম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।