গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের গুটিয়া ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্জ্য অপসারণকে কেন্দ্র করে চরম বিরোধ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে দায়িত্ব পাওয়া বৈধ ঠিকাদারকে কাজে বাধা দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বর্জ্যবাহী গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি বিএনপির নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে ভুক্তভোগী দাবি করেছেন।

এ ঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার মো. সুজ্জত আলী (৪৫)। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে বেআইনি কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগকারী ও মুদাফা পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মো. সুজ্জত আলী জানান, ২০২৬ সালের ২৩ জুন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে তিনি ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পান এবং এরপর থেকে কাজ পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে গত ৯ অক্টোবর গুটিয়া ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্জ্য অপসারণ করতে গেলে আনোয়ার হোসেন ও তাঁর সঙ্গে থাকা ১৫-২০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাঁকে বাধা দেন। এ সময় বর্জ্যবাহী গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।

পরবর্তীতে বিষয়টি টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সভাপতিকে জানালে তিনি আশ্বস্ত করেন। কিন্তু পুনরায় বর্জ্যবাহী গাড়ি নিয়ে হাসপাতালে গেলেও কাজে বাধা দেওয়া হয়।

ঠিকাদার সুজ্জত আলী জানান, বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) আহ্বানে থানায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে আনোয়ার হোসেন, তাঁর লোকজন এবং টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠকের পরও সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি।

সুজ্জত আলীর অভিযোগ, সরকারি নিয়ম মেনে টেন্ডার পাওয়ার পরও কাজ করতে না পেরে তিনি ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এদিকে তাঁকে বাধা দিয়ে হাসপাতালের বর্জ্য অন্য উপায়ে অপসারণ করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, অতীতে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এবং ৫ আগস্টের পর বিএনপি পরিচয়দানকারী 'জালাল' নামে এক ব্যক্তি হাসপাতালের বর্জ্য অপসারণ করতেন। পরবর্তীতে সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে নতুন ঠিকাদার এলে স্থানীয় বিএনপি নেতা পরিচয় দেওয়া আনোয়ার গাড়ি আটকে কাজে বাধা সৃষ্টি করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, বর্জ্য অপসারণের মতো সংবেদনশীল কাজ নিয়ে ব্যক্তিগত বিরোধ বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকা উচিত নয়; বৈধ ঠিকাদারকেই আইনসম্মতভাবে কাজ করতে দেওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন এবং থানায় দুই পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে তিনি নিজে বর্জ্য অপসারণের সঙ্গে জড়িত নন দাবি করে ঠিকাদারকে বাধা দেওয়া ও গাড়ি পোড়ানোর হুমকির বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, আনোয়ারের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং পরিচালনা, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু ছবিও সামনে আনেন অভিযোগকারীর পক্ষের লোকজন।

এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, "অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, বেআইনিভাবে কাউকে বাধাগ্রস্ত করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

ঠিকাদার সুজ্জত আলী দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে সরকারি টেন্ডারের কাজ নির্বিঘ্নে পরিচালনার সুযোগ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।