ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারিত রুটে প্রথমবারের মতো ফেনী রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে ৪৭ জন যাত্রী নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে মহানগর এক্সপ্রেস। ফেনীতে এই ট্রেনের নতুন যাত্রাবিরতি চালুর মাধ্যমে স্থানীয় যাত্রীদের দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষার অবসান ঘটলেও প্রথম দিনেই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১ ঘণ্টা ৪ মিনিট বিলম্বে ট্রেনটি ফেনী স্টেশন ত্যাগ করেছে।

প্রথম দিনের এই উদ্বোধনী যাত্রায় ট্রেনটিতে চড়ে ঢাকা থেকে ফেনীতে আসেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। ট্রেনটি ফেনী থেকে ছাড়ার আগে প্রতিমন্ত্রী এবং ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু যাত্রীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন ও কুশল বিনিময় করেন।

ফেনী রেলওয়ে স্টেশন সূত্র জানিয়েছে, মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে ফেনী স্টেশনের জন্য মোট ৬২টি আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে চট্টগ্রামগামী যাত্রীদের জন্য ১৫টি এবং কক্সবাজারগামী যাত্রীদের জন্য ৪৭টি আসন নির্ধারিত। এর মধ্যে দুটি এসি বার্থ, ১৫টি স্নিগ্ধা এবং ৩০টি শোভন চেয়ারের আসন রয়েছে।

ট্রেনটির ১৮টি কোচের বিপরীতে লোকোমাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. জাহিদুল ইসলাম মিয়া, সহকারী লোকোমাস্টার শাহ আলম এবং গার্ড হিসেবে ইমরুল কায়েস। আগে ঢাকা-কক্সবাজার রুটের অন্যান্য ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়ে আসা ফেনীবাসী এই ট্রেনটির মাধ্যমে সরাসরি কক্সবাজার ভ্রমণের সুযোগ পেলেও চাহিদার তুলনায় মাত্র ৪৭টি আসন কতটুকু সাশ্রয়ী বা পর্যাপ্ত হবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

সময়সূচি অনুযায়ী, সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে রাত ১টা ৪ মিনিটে ট্রেনটির ফেনী পৌঁছানোর কথা ছিল এবং দুই মিনিট যাত্রাবিরতি দিয়ে রাত ১টা ৬ মিনিটে স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রথম দিনে ট্রেনটি রাত ১টা ৫৫ মিনিটে ফেনীতে পৌঁছায় এবং নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত ২টা ১০ মিনিটে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়, ফলে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৫১ মিনিট বিলম্বে পৌঁছায় এবং ১ ঘণ্টা ৪ মিনিট বিলম্বে ছাড়তে বাধ্য হয়।

প্রথম দিনের এই বিলম্বের বিষয়ে ফেনী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. হারুন জানান যে প্রথম যাত্রার আনুষ্ঠানিকতা ও উদযাপনের কারণে কিছুটা দেরি হলেও ভবিষ্যতে ট্রেন চলাচলের সময়সূচি স্বাভাবিক থাকবে।