মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার চিত্রকোর্ট ইউনিয়নের গিরিনগর এলাকায় পৈতৃক জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি অনলাইন পেজে মানহানিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুয়া সংবাদ প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সুশীল সমাজের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে নাসির, কুদ্দুস ও ফেরদৌস স্বাক্ষরিত প্রতিবাদলিপিতে জানানো হয়, গত ৯ অক্টোবর ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে পরিচালিত "ডিএনএ টাইমস" নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে তাদের জড়িয়ে কোনো শিরোনাম ও সত্যতা ছাড়াই একটি মিথ্যা ও একপেশে সংবাদ প্রচার করা হয়।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, গিরিনগর জোনাকি সংসদের নামে ওই জমি কখনোই ছিল না। এটি সম্পূর্ণ তাদের পৈতৃক ও ওয়ারিশান সম্পত্তি এবং বিগত ৬৪ বছর ধরে তারা এই জমিতে ভোগদখল করে আসছেন। উল্টো প্রতিপক্ষরা রাতের আঁধারে স্থানীয় গিরিনগর জোনাকি সংসদ ক্লাবের নাম ভাঙিয়ে মো. হিরুর সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ক্লাব মাঠের পাশের জমি জোরপূর্বক ভেকু দিয়ে কাটা শুরু করলে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হয় এবং প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়।
জমির বৈধ কাগজপত্রের বিষয়ে জানানো হয়, সিরাজদিখান উপজেলার চিত্রকোর্ট ইউপির খারশুর ৬ নং মৌজার ১০১৪ নং আরএস খতিয়ান এবং ২০২৪ নং দাগের মোট ৮০ শতাংশ জমি থেকে ক্রয়সূত্রে মো. হিরো (পিতা: জুনাব আলী) ৪৪ শতাংশ জমির মালিক ও দখলদার ছিলেন। পরবর্তীতে হিরোর ওয়ারিশান ফেরদৌস ও নাসির গং ওই ৪৪ শতাংশ জমি থেকে স্থানীয় বাবুল (পিতা: চান্দু ফকির)-এর নিকট ১২ শতক জমি প্রতি শতাংশ ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যে বিক্রয় করে তাদের দখল বুঝিয়ে দেন।
সংবাদে আফসানা এনাম আশা ও তার স্বামী বাঁধন সম্পর্কে ছড়ানো তথ্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করা হয়। জানানো হয়, আফসানা এনাম আশা মালয়েশিয়ার স্বনামধন্য সাইবারজায়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এবং বর্তমানে তার স্বামীর সাথে মালয়েশিয়াতেই অবস্থান করছেন। প্রবাসে থেকে কারও নাম বিক্রি করে চাপ তৈরি করা অসম্ভব ও হাস্যকর।
এছাড়া প্রতিবাদে আরও উল্লেখ করা হয়, শহিদুল ইসলাম উজ্জ্বল মোল্লা ও তার সিন্ডিকেট কোনো রূপ যাচাই-বাছাই না করে ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করেছে। উজ্জ্বল মোল্লা মাঠ দখলের ভুয়া অভিযোগ তুলে জোরপূর্বক এলাকাবাসীর স্বাক্ষর নিয়ে মসজিদের মাইকে ওই পরিবারকে একঘরে করার ঘোষণা দেন বলে অভিযোগ করা হয়। এর আগেও তারা বিভিন্ন অজুহাতে পরিবারটিকে সমাজচ্যুত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে, যা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। অথচ সিরাজদিখান থানা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে ভুক্তভোগী পরিবার বৈধ কাগজপত্র ও দলিলপত্র প্রদর্শন করতে সক্ষম হলেও প্রতিপক্ষ কোনো সঠিক নথি দেখাতে পারেনি।
প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মানহানি করার জন্যই এই ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এই মিথ্যা ও তথ্যপ্রমাণহীন সংবাদের কারণে ভুক্তভোগী পরিবারের সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যবসায়িকভাবে চরম সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। পরিবারটির পক্ষ থেকে এই মনগড়া সংবাদ প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং দ্রুত এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়।