গাজীপুরের টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার তারিখ দ্রুত ঘোষণা, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের ইজতেমা ময়দানকেন্দ্রিক সহিংসতার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং তাবলীগের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধসহ ৬ দফা দাবি জানিয়েছে তাবলীগ জামাত বাংলাদেশের মাওলানা সাদ কান্ধলভি অনুসারী পক্ষ।
আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে তাবলীগ জামাত বাংলাদেশের (মাওলানা সাদ অনুসারী) মিডিয়া সমন্বয়ক মো. সায়েম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।
মাওলানা সাদ অনুসারীদের ঘোষিত ৬ দফা দাবিগুলো হলো:
১. টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের সুনির্দিষ্ট তারিখ দ্রুত ঘোষণা করা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. ২০১৮ ও ২০২৪ সালের ইজতেমা ময়দানকেন্দ্রিক সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক দায়ীদের আইনের আওতায় আনা।
৩. তাবলীগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বহিরাগত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক নেতাদের অহেতুক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা।
৪. টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা।
৫. দেশের বিভিন্ন জেলা ও থানার মার্কাজ মসজিদ নিয়ে সৃষ্টি হওয়া বিরোধ ও দখলসংক্রান্ত অভিযোগ আইনানুগভাবে নিষ্পত্তি করা।
৬. মসজিদে তাবলীগের নিয়মিত ধর্মীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সম্প্রতি ‘ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশ’ নামের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যক্তিরা মূলতঃ রাজনৈতিক অঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তারা তাবলীগ জামাতের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বারবার তাবলীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে উসকে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে ইসমাইল মণ্ডল ও শামসুদ্দিন বেলাল, ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর বেলাল হোসেন ও মিজানুর রহমান, ২০১৯ সালে কিশোরগঞ্জে আব্দুর রহিম রাজন এবং ২০২৩ সালে ঢাকার নিউমার্কেটে শামসুল হকের মৃত্যুর ঘটনাবলির নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া ২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইজতেমা ময়দান খালি করার নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং পরবর্তীতে প্রচারিত অডিও রেকর্ডের সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান মাওলানা সাদ অনুসারীরা।
দেশের বিভিন্ন মসজিদে তাবলীগের আমলে বাধা দেওয়া এবং মার্কাজ মসজিদ কেন্দ্রিক বিরোধ সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে উল্লেখ করে এসব বিষয়ে সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।