যশোরের চৌগাছা উপজেলার পুড়াপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাব-জোনাল অফিসকে ঘিরে বিদ্যুৎ সংযোগে অনিয়ম ও গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সেচ মোটর ও ড্রাগন চাষের বাণিজ্যিক সংযোগের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অফিসের ইলেকট্রিশিয়ান লাল্টু ও সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

গত ১০ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়। তবে অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা ইলেকট্রিশিয়ান লাল্টু প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে নিজের সম্মানহানির প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংবাদ প্রকাশের পর একাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহক নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন।

চৌগাছা উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে মো. ইলিয়াস রহমান অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে সেচ মোটরের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ৫৪ হাজার টাকা নেন ইলেকট্রিশিয়ান লাল্টু। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের শেষ দিকে অফিসের খরচের অজুহাতে আরও ৩৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

ইলিয়াসের দাবি, সংযোগের আশায় দিনের পর দিন ঘুরেও কাজ না হওয়ায় প্রায় পাঁচ বছর কেটে গেছে। পরবর্তীতে যশোর অফিসে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে সেখানে কোনো নথিপত্রই নেই! এরপর নতুন করে আবেদন করলে পুড়াপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন ও ইলেকট্রিশিয়ান লাল্টু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

দুটি বিদ্যুতের খুঁটিসহ বিভিন্ন ধাপে তাঁর কাছ থেকে দফায় দফায় মোট ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সেচ মোটরের পরিবর্তে তাঁকে ড্রাগন চাষের জন্য বাণিজ্যিক সংযোগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমানে প্রায় তিন মাস ধরে তাঁর বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

এদিকে সুফলকুপুকুরিয়া ইউনিয়নের বর্ণী গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে মাছুদ রানা অভিযোগ করেন, প্রায় নয় মাস আগে তাঁর ড্রাগন বাগানের বিদ্যুৎ সংযোগ কোনো নোটিশ ছাড়াই বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরে অফিসে গেলে জানানো হয়, অনুমোদিত লোড দুই কিলোওয়াট হলেও ব্যবহার হচ্ছে ছয় কিলোওয়াট।

মাছুদ রানার অভিযোগ, এই সমস্যা সমাধানের কথা বলে ইলেকট্রিশিয়ান লাল্টু ও সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর কাছ থেকে ট্রান্সফরমার আনার খরচসহ মোট ৩৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন এবং পরে সংযোগ চালু করে দেন। তবে এসব অর্থের বিপরীতে তাঁকে কোনো বৈধ রসিদ বা লিখিত হিসাব দেওয়া হয়নি।

একইভাবে চৌগাছা পৌরসভার জিওলগাড়ি এলাকার বেলেমাঠের বাসিন্দা মাইনুদ্দিনের ছেলে মো. রুহুল আমিনও ড্রাগন চাষের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন ও ইলেকট্রিশিয়ান লাল্টু বাগান পরিদর্শনের সময় ট্রান্সফরমার কেনার জন্য অতিরিক্ত ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে ইলেকট্রিশিয়ান লাল্টু সেই টাকা গ্রহণ করলেও কোনো রসিদ দেননি।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেন। তবে পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট বিষয়ে ব্যাখ্যা জানার জন্য পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, ইলেকট্রিশিয়ান লাল্টুর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে পুড়াপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) ইমরান হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।"

কৃষি উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কৃষিকাজে বিদ্যুতের মতো একটি জরুরি সেবায় এ ধরনের অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল। তাঁরা অবিলম্বে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।