নাটোরের গুরুদাসপুর বাজারের প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ‘বকুলতলা ঘাট’ পুনরুদ্ধার, দখলমুক্ত ও সংরক্ষণের আকুল দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব, অবৈধ দখল এবং ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে ঘাটটি বর্তমানে সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি গুরুদাসপুর পৌর প্রশাসকের কাছে সরেজমিনে পরিদর্শনপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন এলাকাবাসী। আবেদনে এলাকার ৫৭ জন বাসিন্দা যৌথভাবে স্বাক্ষর করেছেন।

স্থানীয় প্রবীণ ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বকুলতলা ঘাটটি শত শত বছর ধরে গুরুদাসপুর বাজারের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অমূল্য অংশ। একসময় এই ঘাটে নদীপথে ব্যবসায়ীদের পণ্যবাহী বড় বড় নৌকা এসে ভিড়ত এবং চারপাশ জমজমাট কোলাহলে মুখরিত থাকত। এছাড়া স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দৈনন্দিন গোসল, বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পাদন করতে এই ঘাটই ব্যবহার করতেন। পূজা-পার্বণে প্রতিমা বিসর্জনের ক্ষেত্রেও এটি ছিল প্রধান ঘাট।

তবে সময়ের পরিক্রমায় ও সঠিক তদারকির অভাবে ঘাটটি অস্তিত্ব সংকটে পড়ে। পরবর্তীতে ২০০১ সালে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে ঘাটটি সংস্কার করে পাকাকরণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সংস্কারের পর প্রায় ২৫ বছর পার হয়ে গেলেও কোনো পরিচর্যা না থাকায় আবারও এটি দখল ও দূষণের কবলে পড়ে। বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাটি যেন এক ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বকুলতলা ঘাট এলাকার বাসিন্দাদের দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ব্রিটিশ আমল থেকে ঘাটটি সর্বসাধারণের যাতায়াত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু বর্তমানে পরিচ্ছন্নতার অভাব ও অযত্নে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং ঐতিহাসিক এই নিদর্শনটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌছেছে।

আবেদনে স্বাক্ষরকারী মো. রাতুল কুমার কুণ্ডু, রাজু সরকার, নয়ন কর্মকার, আকরামসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘাটটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, দখলমুক্ত এবং পুনঃসংস্কার করা হলে এটি যেমন সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী হবে, তেমনি গুরুদাসপুরের শত বছরের পুরোনো ইতিহাস ও ঐতিহ্যও রক্ষা পাবে। তারা এ ব্যাপারে পৌর প্রশাসকের দ্রুত দৃষ্টি ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ কামনা করছেন।