ভারতীয় ক্রিকেটার অভিষেক পোরেলকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। একই সঙ্গে অভিযোগকারীর সংবেদনশীল ছবি বা তথ্য যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে তার ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দেরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত মাসে হুগলির মোগরা থানায় অভিষেক পোরেলের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়।
অভিযোগকারীর দাবি, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দল দিল্লি ক্যাপিটালসের উইকেটকিপার-ব্যাটার অভিষেক পোরেল বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা ব্যবহার করে তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তাদের পরিচয় হয় এবং ওই বছরের এপ্রিল থেকে যোগাযোগ বাড়ে। চন্দননগরে প্রথম দেখা হওয়ার পর অভিষেক তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মানকুণ্ডুর একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যান, যেখানে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু এর মাঝেই অভিষেক অন্য নারীদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তাকে জোরপূর্বক আটকে রাখা, খাবার থেকে বঞ্চিত করা এবং একা করে রাখার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি অভিষেকের কারণে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য গত ১৪ জুলাই দেওয়া এক আদেশে মোগরা থানার পুলিশকে অভিষেক পোরেলকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে তার ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত জানিয়েছে, পুলিশের গত ৬ জুলাইয়ের প্রতিবেদনে একটি পেনড্রাইভ বা স্টোরেজ ডিভাইস জব্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সংবেদনশীল তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। এসব তথ্য যাতে অন্য কারও কাছে ছড়িয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই অভিযুক্তের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ডিভাইস জব্দ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
তবে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এটি স্পষ্ট যে, অভিষেক পোরেলের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং মামলার তদন্ত বর্তমানে চলমান রয়েছে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!