বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ঘিরে উৎসবের আমেজে ভাসছে পুরো রাজধানী। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি বড় পর্দায় দেখার জন্য পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। তবে এই আনন্দ যেন কোনোভাবেই জনদুর্ভোগ বা সংঘাতের কারণ না হয়, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
বড় পর্দায় আয়োজনে অনুমতি বাধ্যতামূলক: ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, খোলা স্থানে বা কোনো নির্দিষ্ট মাঠে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর আয়োজন করতে হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আগে অনুমতি নিতে হবে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, “কোনোভাবেই রাস্তা দখল করে বা যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে পর্দা টানিয়ে খেলা দেখানো যাবে না। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন কোনো আয়োজনের সুযোগ নেই।”
নিরাপত্তায় বিশেষ সতর্কতা: ফাইনাল ম্যাচ কেন্দ্র করে রাজধানীতে পুলিশের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন ডিবিপ্রধান। তিনি বলেন, “রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল টহল দল দায়িত্ব পালন করবে। বড় পর্দায় খেলা দেখানোর স্থানগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়া হবে, যাতে দর্শকরা নির্বিঘ্নে খেলা উপভোগ করতে পারেন।”
সহনশীলতার আহ্বান: বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে দেশে ইতোমধ্যে সহিংসতায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যু এবং অর্ধশতাধিক আহতের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দর্শকদের প্রতি সহনশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, “এটি একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজন। সবাইকে খেলার ফলাফলকে কেবল বিনোদন হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। ব্যক্তিগত বিরোধ, মারামারি বা সহিংসতার ঘটনা যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
চোর-ছিনতাইকারী ও অপরাধ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: জনাকীর্ণ স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার সময় মোবাইল, মানিব্যাগসহ মূল্যবান জিনিসপত্রের বিষয়ে দর্শকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে ডিবি পুলিশ।
এদিকে, অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “আমাদের সমাজে জয়-পরাজয়কে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার সংস্কৃতি এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। ফুটবল আনন্দের উপলক্ষ, তাই উত্তেজনার পরিবর্তে দর্শকদের সহনশীলতা প্রদর্শন করা উচিত।”
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে জনদুর্ভোগ, শব্দদূষণ ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি হাইকোর্টে একটি রিট আবেদনও করা হয়েছে। রিটে উচ্চ শব্দে আতশবাজি ও লাউড স্পিকারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের দাবি জানানো হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি দর্শকদের এই দায়িত্বশীল আচরণই পারে ফুটবল উৎসবকে নিরাপদ ও আনন্দময় করে তুলতে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!