ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের মেডিপালি শহরে তীব্র মানসিক যন্ত্রণা ও মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ২৫ বছর বয়সী এক প্রাক্তন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের রহস্যময় মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিগত রাতে সিসিটিভি ক্যামেরায় বিবস্ত্র অবস্থায় রাস্তায় দৌড়াতে দেখার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্থানীয় এক মন্দিরের পুকুর থেকে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত তরুণীর নাম তেজস্বিনী। তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের বিজীয়ানাগ্রাম জেলার বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় ছয় মাস আগে বেঙ্গালুরুর একটি আইটি ফার্মের চাকরি ছেড়ে তিনি গত দুই মাস ধরে তার মায়ের সঙ্গে পীরজাদিগুড়া এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
ঘটনার বিবরণ: পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে মা ও মেয়ে একসঙ্গে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আড়াইটার দিকে তেজস্বিনী হঠাৎ জেগে ওঠেন এবং তার মা যাতে ঘর থেকে বের হতে না পারেন, সেজন্য বাইরে থেকে ঘরের দরজা লক করে দেন। এরপর তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে যান।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ২টা ৩৫ মিনিটে ওই তরুণী সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় হাতে একটি শাড়ি নিয়ে কলোনির রাস্তা দিয়ে দৌড়াচ্ছেন। রাত ২টা ৪৫ মিনিটে তিনি স্থানীয় বীরাপ্পা মন্দিরের সামনে গিয়ে থামেন এবং প্রার্থনায় মগ্ন হন। এরপর রাত ৩টার দিকে তিনি মন্দির সংলগ্ন পুকুরের দিকে দৌড়ে যান এবং সরাসরি পানিতে ঝাঁপ দেন। পরদিন সকালে স্থানীয়রা পুকুরে তার মরদেহ ভেসে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়।
মানসিক স্বাস্থ্যের লড়াই: পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও নিহতের চিকিৎসার ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা গেছে, তেজস্বিনী তীব্র বিষণ্নতা (ডিপ্রেশন) ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তেজস্বিনীর মা পুলিশকে জানিয়েছেন, তার মেয়ে প্রায়ই দুঃস্বপ্ন দেখতেন এবং তীব্র আতঙ্কে (প্যানিক অ্যাটাক) ভুগতেন। পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজে অন্য কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি বা ধস্তাধস্তির লক্ষণ পাওয়া যায়নি। ফলে এটি হঠাৎ মানসিক ভারসাম্য হারানোর ফলে ঘটে যাওয়া আত্মহত্যার ঘটনা বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি সেকান্দারাবাদের গান্ধী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মেডিপালি পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারী দল।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!