বাংলা চলচ্চিত্রের ‘মিষ্টি মেয়ে’ খ্যাত কিংবদন্তি অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরীর আজ জন্মদিন। ১৯৫০ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া এই গুণী শিল্পী অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাণের জগতেও নিজের ছাপ রাখতে চেয়েছিলেন। তার পরিচালিত স্বপ্নের সিনেমা ‘এই তুমি সেই তুমি’ মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল অনেক আগেই। কিন্তু কবরীর মৃত্যুর পাঁচ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সরকারি অনুদানের এই সিনেমাটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি। কেন ছবিটি আটকে আছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

কবরীর অসমাপ্ত স্বপ্ন: ২০০৬ সালে ‘আয়না’ নির্মাণের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে কবরী শুরু করেছিলেন ‘এই তুমি সেই তুমি’। মুক্তিযুদ্ধ ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই সিনেমার চিত্রনাট্য ও সংলাপ তারই লেখা ছিল। ২০২০ সালে শুরু হওয়া এই সিনেমার কাজ করোনা মহামারির মধ্যেও চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২১ সালের এপ্রিলে করোনা আক্রান্ত হয়ে কবরীর অকাল মৃত্যুতে সিনেমার কাজ থমকে যায়। পরবর্তীতে তার ছেলে শাকের চিশতী মায়ের অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণের হাল ধরেন এবং শুটিং শেষ করেন।

নির্মাতাপক্ষ ও সরকারি দপ্তরের বিপরীতমুখী তথ্য: ২০২৩ সালের শেষ দিকে নির্মাতা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলেন, সিনেমাটি মুক্তির জন্য প্রস্তুত। তবে এরপর আর কোনো অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে নির্মাতাপক্ষ দাবি করছে, ইংরেজি সাবটাইটেল সংযোজন ও সার্টিফিকেশন বোর্ডে ছাড়পত্রের জন্য আবেদন প্রক্রিয়াধীন।

কিন্তু ভিন্ন কথা বলছে সরকারি দপ্তর। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের উপ-পরিচালক মঈনউদ্দীন জানিয়েছেন, রবিবার পর্যন্ত তাদের কাছে ছবিটির জন্য কোনো আবেদন জমা পড়েনি। অন্যদিকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, অনুদানপ্রাপ্ত সিনেমার নিয়ম অনুযায়ী আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শন কিংবা অর্থ ছাড়ের যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, তার কোনো নথিই মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়নি বর্তমান নির্মাতাদল।

অনিশ্চয়তার মুখে কবরীর শেষ সৃষ্টি: একদিকে নির্মাতাপক্ষ বলছে সিনেমাটি প্রস্তুত, অন্যদিকে সরকারি দপ্তরের তথ্য বলছে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বালাই নেই। এই বিপরীতমুখী অবস্থানে আটকে গেছে ‘এই তুমি সেই তুমি’। কবরী তার এই শেষ সিনেমার জন্য গান লিখেছিলেন, যার সংগীত পরিচালনা করেছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন। সবটুকু আবেগ ঢেলে বানানো সিনেমাটি আদৌ মুক্তি পাবে কি না, তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে।

কবরী আজ নেই, কিন্তু তার শেষ স্বপ্নের সিনেমাটি বড় পর্দার অপেক্ষায়। দর্শক কি আদৌ দেখতে পাবেন কবরীর শেষ নির্মাণের স্বাদ? নাকি প্রশাসনিক জটিলতায় চিরতরে হারিয়ে যাবে এই শিল্পকর্ম—এমনটাই প্রশ্ন এখন সিনেমাপ্রেমীদের।

প্রতিবেদনটি আরও নিখুঁত করতে কিছু পরামর্শ:

১. ফলো-আপ: যেহেতু প্রতিবেদনটিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের বক্তব্য আছে, তাই এটি পাঠকদের কাছে বেশ গ্রহণযোগ্য হবে। যদি সম্ভব হয়, শাকের চিশতীর সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে "কেন আবেদন জমা পড়ছে না" এই বিষয়ে তার কোনো সংক্ষিপ্ত মন্তব্য যোগ করলে প্রতিবেদনটি আরও পূর্ণাঙ্গ হতো। ২. ছবি ও ডিজাইন: কোনো নিউজ পোর্টালে প্রকাশের সময় কবরীর একটি পুরোনো ছবি এবং এই সিনেমার কোনো দৃশ্য বা পোস্টার (যদি থাকে) ব্যবহার করলে পাঠকদের আগ্রহ বাড়বে।