ঝালকাঠির কাঠালিয়া থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া—দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এখন টাঙ্গাইলের মধুপুরে গড়ে তুলেছেন মাদকের স্বর্গরাজ্য। বলছি শহিদুল হাওলাদার (৪২) নামের এক ব্যক্তির কথা, যিনি এক সময় ট্রাকের হেলপার ও চালক হিসেবে কাজ করলেও বর্তমানে অঢেল সম্পদের মালিক। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মাদক চোরাচালানসহ প্রায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে।

ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার পাটিখালঘাট গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে শহিদুল হাওলাদার। দীর্ঘদিনের ট্রাক চালনার সুবাদে সীমান্তের মাদক চোরাচালানের রুট ও কৌশলগুলো তার নখদর্পণে। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক ও জেল খেটে জামিনে বেরিয়ে এসে তিনি ফের জড়িয়ে পড়েন একই অপরাধে। নিজের পরিচয় গোপন রাখতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার শরীফপুর গ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করে আসছেন তিনি।

গত দুই বছর ধরে টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌর শহরের বোয়ালী গ্রামের আকবর হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকছেন শহিদুল। স্থানীয়দের কাছে নিজেকে মাছ ও হাঁসের খামারি পরিচয় দিলেও, তার বিলাসবহুল জীবনযাপন এলাকাবাসীর মনে সন্দেহের সৃষ্টি করে। সরেজমিনে দেখা যায়, তার খামারে নামমাত্র কিছু হাঁস ও মাছ রয়েছে, যা তার জীবনযাত্রার খরচের তুলনায় অতি নগণ্য। স্থানীয়দের ধারণা, যমুনা সেতু ব্যবহার করে রাতের আঁধারে মাদক পরিবহনের নিরাপদ রুট হিসেবেই তিনি মধুপুরকে বেছে নিয়েছেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, কালিহাতী ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তার বিরুদ্ধে অন্তত ১২টি মাদক মামলা রয়েছে। একসময় বিপুল পরিমাণ মাদকসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে স্থানীয় কিছু ব্যক্তিকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে তিনি প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে শহিদুল হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তবে অতীতে মাদক ব্যবসার কথা স্বীকার করে তিনি দাবি করেন, "মানুষ কি ভালো হতে পারে না? আমার বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও আমি এখন আর এই ব্যবসার সাথে জড়িত নেই।"

ঝালকাঠির কাঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রায়হান জানান, শহিদুলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কিনা, তা সরাসরি জানানো সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, "মধুপুর থানা কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।"