ভোলার ইলিশায় মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের সিসি ব্লকে বড় ধরনের ধস দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ৩০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যার ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ধসের কারণে ইলিশা-ঢাকা রুটের একটি লঞ্চঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানপাট সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত ১৪ জুলাই অমাবস্যার প্রভাবে মেঘনার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকায় এই ধস শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এই বাঁধ নির্মাণের পর পানি উন্নয়ন বোর্ড আর কোনো সংস্কার কাজ করেনি। তাদের উদাসীনতার কারণেই বর্তমানে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শহর রক্ষা বাঁধসহ আশপাশের হাজার হাজার বসতঘর ও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে এবং লক্ষাধিক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়বে।

ব্যবসায়ীরা জানান, লঞ্চঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের ব্যবসা বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। যে কোনো মুহূর্তে দোকানপাট ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১-এর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়া উদ্দিন আরিফ জানান, দুর্ঘটনা এড়াতে বিআইডব্লিউটিএ-এর মাধ্যমে আপাতত লঞ্চঘাটটি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ওই রুটে বর্তমানে অন্য একটি ঘাট চালু আছে। তিনি আরও বলেন, ধস কবলিত এলাকায় দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করতে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। আপাতত ৫০ মিটার এলাকায় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের কাজ শুরু করা হবে।