সরকারি খাতের পরিচালন ব্যয় কমানো ও বেতন-ভাতা সীমিত রাখার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরোক্ষ চাপ থাকলেও তা খুব একটা আমলে নিচ্ছে না সরকার। কঠোর রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার পাশাপাশি জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনা করে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে শক্ত অবস্থান নিয়েছে সরকার।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১ জুলাই থেকেই নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের নীতিগত ঘোষণা রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, আইএমএফের সংস্কার প্রস্তাবগুলোকে সম্মান করা হলেও দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারীদের দাবি উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।
নতুন এই কাঠামোতে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, মূল বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। বেতন সর্বোচ্চ ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকেই নতুন স্কেলের মূল বেতনের পুরো অংশ সরকারি কোষাগার থেকে প্রদান করা হবে। তবে আর্থিক চাপ সামলাতে ভাতা সংক্রান্ত অংশটি আগামী অর্থবছরে দুই ধাপে পরিশোধের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে বর্তমানে চলমান ২ থেকে ৩ হাজার টাকার অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ ভাতাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে, কারণ নতুন স্কেলে মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ভাতার আর প্রয়োজনীয়তা থাকবে না।
নতুন পে স্কেলের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বর্তমান বাজারের প্রেক্ষাপটে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ১৪০ শতাংশ এবং কর্মকর্তাদের জন্য ১০০ শতাংশ বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব অত্যন্ত যৌক্তিক। প্রশাসনিক সততা বজায় রাখা এবং জীবনযাত্রার মান ধরে রাখতে এটি অপরিহার্য।’
তিনি আরও বলেন, অতীতে অষ্টম পে স্কেলের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বেতন বৃদ্ধির সাথে মূল্যস্ফীতির সরাসরি তেমন কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক নেই। তাই আইএমএফের উদ্বেগের বিষয়টি সরকার সুচিন্তিতভাবেই মোকাবিলা করছে এবং বাজেটের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করেই এই কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!