তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে কিউবায় আবারও দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্বালানি-সংক্রান্ত কঠোর অবরোধের জেরে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশটিতে দ্বিতীয়বারের মতো এই সংকট তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুরো কিউবা অন্ধকারে ডুবে যায়। রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা ‘ইউনিয়ন ইলেক্ট্রিকা দে কিউবা’ এই বিভ্রাটের খবর নিশ্চিত করলেও সরকার এর পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট চারবার সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটল।
কিউবার বিদ্যুৎ অবকাঠামো অত্যন্ত পুরোনো এবং মূলত শীতল যুদ্ধের সময়কার (১৯৬০-১৯৮০ দশক)। এর ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ দেশটিকে চরম বিপাকে ফেলেছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প কিউবার জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করার নীতি গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে কিউবার ঘনিষ্ঠ মিত্র ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং কিউবায় জ্বালানি সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকির কারণে দেশটিতে তেল আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কিউবা তার ব্যবহৃত তেলের মাত্র ৪০ শতাংশ অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন করতে সক্ষম, বাকি ৬০ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশ থেকে তেল সরবরাহ আসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কিউবা বর্তমানে আধুনিক ইতিহাসের দীর্ঘতম বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই জ্বালানি ঘাটতির ফলে কিউবার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম বিপর্যস্ত হতে পারে। পরিবহন ও জরুরি সেবা খাত পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। যদিও ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে মোট শক্তির ২৫ শতাংশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কিউবা সরকার, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটই দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!