ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ডেঙ্গু মশক নিধন কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা কীটনাশক নিয়ে বড় ধরনের জালিয়াতির তথ্য ফাঁস হয়েছে। সিঙ্গাপুরের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান 'বেস্ট কেমিক্যাল কোং (এস) পিটিই লিমিটেড'-এর নাম ও মোড়ক ব্যবহার করে নিম্নমানের রাসায়নিক সরবরাহের অভিযোগে মার্শাল এগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
২০২২-২৩ অর্থবছরে ডিএনসিসি ৫ হাজার কেজি মশক নিধনকারী কীটনাশক (বিটিআই) আমদানির জন্য দরপত্র আহ্বান করে। কার্যাদেশ পাওয়া দেশীয় প্রতিষ্ঠান 'মার্শাল এগ্রোভেট' চুক্তি অনুযায়ী সিঙ্গাপুরের ওই কোম্পানির মোড়কে কীটনাশক সরবরাহ করে। ২০২৩ সালের ৩ আগস্ট তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও মেয়রের উপস্থিতিতে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কীটনাশক ব্যবহার কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।
কিন্তু অনুষ্ঠানের ছবি ও সংবাদ প্রচারের পর সিঙ্গাপুরের মূল কোম্পানি ফেসবুক ভেরিফাইড পেজে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়ে দেয়, তারা বাংলাদেশে এমন কোনো কীটনাশক সরবরাহ করেনি। এরপরই পুরো জালিয়াতির চিত্র উন্মোচিত হয়।
তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, মার্শাল এগ্রোভেটের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলাউদ্দিন ও নির্বাহী পরিচালক নাসির উদ্দিন আহমেদ কোনো অজ্ঞাত উৎস থেকে রাসায়নিক সংগ্রহ করে সিঙ্গাপুরের কোম্পানির নকল মোড়কে তা সিটি কর্পোরেশনে সরবরাহ করেছিলেন। ডিবির পরিদর্শক মো. জেহাদ হোসেন সম্প্রতি আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে এই জালিয়াতির বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। মামলার অভিযুক্ত চীনা নাগরিক লি কিউইয়াংয়ের নাম-ঠিকানা যাচাইযোগ্য না হওয়ায় তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
মামলা: ২০২৩ সালের ২১ আগস্ট ডিএনসিসির সহকারী ভাণ্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা মো. রাহাত আল ফয়সাল বাদী হয়ে এই জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন। কারাবাস ও জামিন: মামলার পর আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। পরে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় দশ দিন হাজতবাসের পর ১৬ অক্টোবর আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। চার্জশিট: তদন্ত শেষে সম্প্রতি ডিবি পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়ায় আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে।
নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ করতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসামিরা চীনা নাগরিক লি কিউইয়াংকে সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, যা ছিল একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণার অংশ। বর্তমানে মামলাটি চার্জশিট দাখিল পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!