আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে স্বর্ণের দাম। সোমবার (৮ জুন) বিশ্ববাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমে গত দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। মার্কিন অর্থনীতিতে শক্তিশালী কর্মসংস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে তৈরি হওয়া ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মিশ্র প্রভাবে বিশ্ববাজারে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাশার চেয়েও শক্তিশালী কর্মসংস্থানের (জবস ডেটা) প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর ফলে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ (Fed) মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। আর এই পূর্বাভাসের কারণেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বর্ণ বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক সরবরাহ করা স্বর্ণ বা ‘স্পট গোল্ড’-এর দাম ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,২৯০.৬৬ ডলারে নেমে আসে। যা গত ২৩ মার্চের পর সর্বনিম্ন দর। এর আগে গত শুক্রবারও একদিনে স্বর্ণের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমেছিল।
একই চিত্র দেখা গেছে ফিউচার বা চুক্তিভিত্তিক বাজারেও। আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার প্রাইস ১.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩১৫.৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতির (Inflation) আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে, যা বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
সাধারণত উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্বর্ণ একটি সুদবিহীন সম্পদ (Non-yielding asset); তাই ব্যাংকে বা বন্ডে সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের চেয়ে সুদযুক্ত খাতে বিনিয়োগ করা বেশি লাভজনক মনে করেন। ফলে স্বর্ণের চাহিদা কমে যায়।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে স্বর্ণের বাজার আবার কবে নাগাদ ঘুরে দাঁড়াবে। আপাতত বিশ্ববাজারের সব চোখ এখন মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।








মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!