মিরপুর-১-এর ডি ব্লকে ১৯৭৬ সাল থেকে দরিদ্র ও অসহায় নারী-শিশুদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা 'রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার' দখলে নেওয়ার পেছনে দীর্ঘদিনের পাঁয়তারার তথ্য উঠে এসেছে। ১০ কাঠা সরকারি জায়গায় অবস্থিত এই 'গরিবের হাসপাতাল'টি স্থায়ীভাবে পাওয়ার বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট চলমান রয়েছে।
তবে ২০০৫ সাল থেকে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় মালিক সমিতি’র ব্যানারে জমিটির মালিকানা দাবি করে ২০০৯ ও ২০১৯ সালে একাধিক গ্রুপ এটি দখলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীকালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি রাজনৈতিক প্রভাবশালী চক্র সমমনা দোকানদার সমিতির ব্যানারে জমিটি দখলে সক্রিয় হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি গভীর রাতে ৪-৫ ঘণ্টা ধরে বুলডোজার দিয়ে সেবাকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেয় হামলাকারীরা। সেবাকেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার জানান, নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে বেঁধে রেখে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মালামালসহ প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদ লুট করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে শিশুদের টিকাদানের গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্টার ও সরকারি নথি হারিয়ে যাওয়ায়, যার ফলে বহু শিশুর টিকাদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার স্থান শাহ আলী থানা থেকে ১ কিলোমিটারের কম দূরত্বে হলেও দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই তাণ্ডবে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। তদন্তে পুলিশের গাফিলতির প্রমাণ মেলায় ইতোমধ্যে শাহ আলী থানার ওসিকে ক্লোজড করা হয়েছে এবং ৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রটি পরিদর্শনের পর যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ঘটনাটিকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে দ্রুত এটি সংস্কার করে সেবা চালুর আশ্বাস দেন। একই সাথে তিনি জানান, জমি নিয়ে কারো কোনো দাবি থাকলে তা আইনি প্রক্রিয়ায় নিস্পতি হতে হবে, রাতের আঁধারে ভাঙচুরের সুযোগ দেওয়া হবে না।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!